তিনদিনেও খোঁজ মেলেনি সেই ট্যাক্সিক্যাব ও চালকের, হতাশ স্বজনরা

পার হয়েছে ৭২ ঘন্টা। ঠিক তিনদিন। কিন্তু এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি হতভাগ্য টেক্সিক্যাব ও তার চালক জিয়াউর রহমানের। গত শনিবকার রাতের দুর্ঘটনার পর থেকে কাজ করছে ফায়ারসার্ভিস ও পরে যোগ দেয়া নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের সদস্যরা। আজ (বুধবার) সকাল থেকে নৌবাহিনীর দুইটি হাইটেক সাইট স্ক্যান সোনার দিয়ে ১৫ সদস্যের দল ৪ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে নিখোঁজ টেক্সিক্যাবটির সন্ধানে কাজ করছেন। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) তারা ১ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে কাজ করেছিলেন। উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশের একটি দল স্পীড বোটে করে নদীর বিভিন্ন স্থানে টহল অব্যহত রেখেছে, বাড়ানো হয়েছে তল্লাশী এলাকা, কিন্তু নেই কোনো ফলাফল। তাতে হতাশ চালকের পরিবারের সদস্যরা। গত দুইদিন তুরাগে নিখোঁজ ট্যাক্সি চালক জিয়াউর রহমানের স্বজন নাসিম ও সিরাজুল ইসলামের সময় কাটছে কখনও মহাসড়কে দাঁড়িয়ে, নদীর পাড়ে বসে কিংবা কিছুক্ষণ পর পর উদ্ধারকর্মীর পাশে গিয়ে জিজ্ঞাস করছে কোনো সুরাহা হয়েছে কী না ?

স্বজনরা গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা তো উদ্ধার অভিযান বুঝিনা, আমরা জানি না কিভাবে ডুবুরি কাজ করবে? আমরা চাই জিয়াউরের অন্তত নিথর দেহটা উদ্ধার করা হউক। তার পথ চেয়ে বসে আছে তার অবুঝ দুই সন্তান।”

হতাশ স্বজনরা -বার্তাবাজার।

এদিকে, নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সোলায়ামান কবির জানিয়েছেন, আমরা বেশি জায়গা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। স্ক্যানারের পাশাপাশি ডুবুরি দলও কাজ করছে। এছাড়া তল্লাশী করা জায়গা খুঁটি দিয়ে চিহিৃত করে রাখছি। বিরতিহীনভাবে আজ রাত ১০ টা পযন্ত কাজ করার কথা রয়েছে। আশা করি দ্রুত ভালো কোন সংবাদ পাবো।

‘কতদিন পর্যন্ত এই অভিযানে অংশ নেবে নৌবাহিনী?’- গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘এব্যাপারে এখনো কোনী সিদ্ধান্ত হয়নি। উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচানার পরই তা বলা যাবে।’

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন-৫ এর উপ-সহকারী পরিচালক নিয়াজ আহমেদ বলেন, আজ (বুধবার) আমাদের ১৮ সদস্যের দল কাজ করছে। তারমধ্যে ৪ জন ডুবুরি। পালা করে কাজ অব্যহত রয়েছে। যেহেতু ঘটনার প্রায় ৩ দিন হয়ে গেছে। তাই একটু বেশি জায়গা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তবে পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, আজ (বুধবার) উধ্বর্তন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে আসার পরে তাদের নির্দেশনা অনুসারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে আমিনবাজার সালেহপুর ব্রীজের ঠিক আগেই একটি বাসের সাথে ধাক্কা লেগে রাস্তা থেকে ছিটকে তুরাগ নদে গিয়ে পড়ে একটি ট্যাক্সি ক্যাব। পরদিন সোমবার (২২জুলাই) মহাসড়কে থাকা পুলিশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং নিজেদের জিপিআরএস সিস্টেম থেকে নিখোঁজ ট্যাক্সিসহ ড্রাইভারের পরিচয় নিশ্চিত করে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত ট্রাস্ট ট্যাক্সি।

ব্রিজের এই পাশ দিয়েই গত শনিবার টেক্সিক্যাবটি তুরাগ নদীতে পরে যায়। -ছবিঃ শাহরিয়া হৃদয়।

বার্তাবাজার/এসআর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর