অর্থের অভাবে পচন ধরা পা কাটতে পারছেনা রিকশাচালক আনোয়ার

নাম তার মোঃ আনোয়ার হাওলাদার। বয়স হবে ৪৮ কি ৫০। পেশায় তিনি ছিলেন একজন রিক্সাচালক। বাড়ি তার পটুয়াখালী সদর উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকায়। যখন সে সুস্থ ছিলো তখন তার ছিলো আত্মিয় স্বজন ও বাড়িঘর। বর্তমানে লোহালিয়া খেয়াঘাট এলাকায় একটি বট গাছের ছায়ায় কাটছে তার জীবন। খেয়াঘাট থেকে টাকা দিলে পেটে খাবার জোটে, না দিলে না খেয়ে থাকতে হয়ে সারাদিন। অসহায় আনোয়ারের টাকার অভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা। তার বাম পায়ে দীর্ঘদিন ধরে পচন ধরে চারপাশে দুর্ঘন্ধ ছরাচ্ছে। আবার পচা অংশ থেকে পোকাও বের হচ্ছে।

জানাগেছে, মোঃ আনোয়ার হাওলাদার পটুয়াখালী সদর উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার মৃত্যূ তজিম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন একজন রিক্সাচালক। অশ্রুসিক্ত নয়নে আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ১৫ বছর আগে আমি মানসিক রোগে অসুস্থ হয়ে পরি। রিক্সাচালাইয়া অল্প অল্প করে আমি কিছু টাকা জমাইছি তা দিয়ে চিকিৎসা করে আমি সুস্থ হই। কিন্তু দীর্ঘদিন আমি বিছানায় অসুস্থ হয়ে থাকার কারণে আমার স্ত্রী অনত্র বিবাহ করে আমাকে ফেলে তার অন্য স্বামীর সাথে চলে যায়। আমাদের পরিবারে দুই মেয়ে ছিলো। এক মেয়ে অনেকবছর আগে হঠাৎ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। অন্য মেয়েকে ৭ বছর আগে বিয়া দেই।

আনোয়ার আরও বলেন, বছর খানেক আগে আমার পায়ের পাতায় ছোট একটি ট্যাপের মতো হয়েছিল তখন সেটাকে আমি ব্লেট দিয়ে কাটি। সব সময় ব্লেড দিয়ে পায়ের নখ বা বারতি চামরা কাটি। কোন সময় কিছু হয় নাই। এবার কাটার পর থেকে অসজ্য ব্যাথা করে বাম পায়ের নিচে চুলকানি শুরু হয় । তখন রিকশা চালাইতাম। ভালো টাকা জমাইয়ছিলাম।এরপর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। ভর্তি হবার পর থেকে পায়ের গোরালিতে গারা (গর্ত) হয়। ডা. হাবিবুর রহমান আমাকে চার বার দেখে। চার বার দেখার পরে আমার রান থেকে মাংস নিয়ে ওই গর্তে দিয়ে অপারেশন করে। তবে ডা. স্যারে বলছেন, এবার যদি পা ঠিক না হয় তবে পা কাটতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমার পা ঠিক হয়নি। আমার কাছে কোন টাকা নাই, হাসপাতালে গেলে এখন আর আমায় চিকিৎসা দেয় না। এখন টাকার অভাবে ঠিক মতো দুবেলা খাবার খেতে পাই না। তিন মাস আগে লোহালিয়া খেয়াঘাটের এখানে আসলে ঘাট থেকে আমায় প্রতিদিন পঞ্চাশ টাকা করে দেয়। তা দিয়ে দুবেলা কোন রকম ভাত খাই। ডাক্তাররা আমায় বলেছেন, ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা করার জন্য। আমার থাকার কোন জায়গাও নেই। পা কেটে ফেলতে হবে। আমার টাকা নেই।

লোহালিয়া খেয়া ঘাটের টোল আদায়কারী আশিষ দত্ত বলেন, আমাদের পৌর মেয়র মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সব সময় গরীব ও অসহায় মানুষদেরকে সাহায্য করতে। তাই সবাইকে আমরা আমাদের সাধ্য মতো সাহায্য করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি(আশিষ দত্ত) আরও বলেন, যদি সরকার বা ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এই অসহায় গরিব মানুষটিকে চিকিৎসা করে তবে সে হয় তো বাচঁতে পারে।

অপর টোল আদায়কারী মোঃ মাসুদ বলেন, তার (আনোয়ার) থাকার কোন ঘর নেই সরকার যদি তাকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে ভালো হতো।

স্থানীয় সংবাদকর্মী এনামুল রহমান বলেন, আনোয়ারের পায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। তার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু টাকার অভাবে কোনো চিকিৎসা করাতে পারছেন না। যদি সরকারের পক্ষ থেকে বা কোন ধনাঢ্য ব্যক্তি বা কোন সংস্থার মাধ্যমে তাকে চিকিৎসা করানো যায় তাহলে তাকে সুস্থ করা যেতে পারে।

বার্তাবাজার/এসআর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর