রিফাত হত্যা: নতুন মোড় খুলে দিলেন মিন্নির বাবা

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইতে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন তার শ্বশুর মোজাম্মেল হোসেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে ‘নতুন তথ্য’ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “প্রভাবশালী মহলের চাপে খুনিদের আড়াল করতে আমার মেয়েকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। খুনিদের আড়াল করতে পুলিশ মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছে। বরগুনা পুলিশের অধীনে এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি মহোদয়ের কাছে অনুরোধ, যাতে রিফাত হত্যা মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের আইনের আওতায় আনেন।”

লিখিত বক্তব্যে মিন্নির বাবা বলেন, “উপস্থিত শত শত মানুষের কেউ এগিয়ে না এলেও আমার মেয়ে মিন্নি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে স্বামী রিফাতকে একা বাঁচানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় যে ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয় তার মাধ্যমে মিন্নি দেশবাসীর কাছে সাহসী নারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।”

তিনি বলেন, এরপর রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বরগুনা সদর থানায় বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার ১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে মিন্নিকে রাখা হয়। প্রভাবশালী মহলের চাপে ১৩ জুলাই মিন্নির গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দুলাল শরীফ। এরপর মানববন্ধন করে মিন্নির গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

মিন্নির বাবা বলেন, ১৬ জুলাই পুলিশ মিন্নিকে আসামি শনাক্ত করার কথা বলে বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে। সোয়া ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে।

তিনি বলেন, “আমার মেয়ে অসুস্থ। কিছুদিন আগেও তাকে চিকিৎসা করাতে হয়েছে ঢাকা নিয়ে। পুলিশি নির্যাতনে আমার মেয়ে এখন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। তার সুচিকিৎসার খুব প্রয়োজন।”

মিন্নির বাবা অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রভাবশালী মহলকে আড়াল করতে আমার মেয়েকে ফাঁসাচ্ছে।”

তিনি বলেন, রিফাত হত্যার আগে রিফাতের সঙ্গে বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের স্ত্রী শামসুন্নাহার খুকির বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর খুকি তার বোনের ছেলে রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী কাছে এবিষয়ে নালিশ করে যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়া প্রকাশ হয়েছে।”
“সেদিন হত্যাকারীরা বলেছিল- তুই আমার মাকে গালাগাল করেছিস। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বল। রিফাত ও রিশান ফরাজী খুকিকে মা বলে ডাকতেন। তাই আমার ধারণা- এটাও এই হত্যাকাণ্ডে রিফাত ও রিশানের আগ্রাসী ভূমিকার কারণ হতে পারে” যোগ করেন মিন্নির বাবা।

তিনি বলেন, “মাকে (খুকিকে) গালাগাল করার প্রতিশোধ নিতে গিয়েই রিফাত ও রিশান ফরাজী হত্যাকাণ্ডের অগ্রভাগে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারাই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছে। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে এবিষয়ে সকল তথ্য বেরিয়ে আসবে।”

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওই দিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। পরে মিন্নিকেও রিফাত হত্যা মামলার আসামি করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মিন্নিসহ এ পর্যন্ত ১৪ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বার্তাবাজার/আরএইচ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর