১৯, নভেম্বর, ২০১৮, সোমবার | | ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

দিল্লিতে জরুরি অবস্থা ঢাকা কত দূর

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৮

দিল্লিতে জরুরি অবস্থা ঢাকা কত দূর

বায়ুদূষণ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় শহরটির কর্তৃপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে দশ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এই সময়ের মধ্যে বায়ুদূষণ করে এমন সব কর্মকাণ্ডকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সেগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শহরটির কর্তৃপক্ষের আশা এতে করে দূষণের মাত্রা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। তবে নির্মাণাধীন বিভিন্ন অবকাঠামো, অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, শহরের আশপাশের ইটভাঁটার কারণে বিপর্যস্ত ঢাকার দূষণ দিল্লির মতো অল্প সময়ে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দূষণের উৎসগুলোর বিষয়ে একটা দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিলেই ঢাকার দূষণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।

প্রতিবছর এই সময়ে দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকায় দূষণের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজের পাশাপাশি দীপাবলি উপলক্ষে বিস্তর বাজি পোড়ানো হয়। এসবের সঙ্গে যোগ হয় গাড়ির দূষণ। আর এর সঙ্গে যোগ হয় হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও পশ্চিম-উত্তর প্রদেশের চাষের জমিতে ফসলের গোড়া পুড়িয়ে দেওয়ার প্রথা। এ কারণেই সেখানে দশ দিনের জরুরি অবস্থা দিয়ে দূষণের মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তবে ঢাকার বায়ুদূষণের উৎস ও প্রকৃতি দিল্লির চেয়ে ভিন্ন বলেই এখানে আরো দীর্ঘ সময়ের জন্য উৎসগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, যথাযথ তদারকি আর সঠিক পরিকল্পনার অভাব, বিদ্যমান আইন প্রয়োগের অভাব এবং সঠিক সময়ে দূষণের মাত্রা পরিমাপ না করার কারণেই দূষণ ইতোমধ্যে মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়া কিছু স্থায়ী উৎস ঢাকাকে যেভাবে প্রতিনিয়ত দূষিত করে যাচ্ছে তাতে অল্প সময়ের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অবস্থার কোনো পরিবর্তন আসবে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুসারে এই অবস্থায় এই দশ দিন দিল্লিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে নির্দেশিকা জারি করছে বিভিন্ন দেশ। গত বুধবার দিল্লির বাতাসের ‘কোয়ালিটি ইনডেক্স’ ছিল ৩৬৬, যা নির্ণায়ক অনুযায়ী ‘মারাত্মক’। এই অবস্থায় শহরটির দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের দাবি, ঢাকার দূষণের মাত্রা এখনো এমন অবস্থায় পৌঁছায়নি যার কারণে শহরে জরুরি অবস্থা জারি করতে হবে। তবে দূষণের কথা চিন্তা করে পরিবেশ অধিদফতর ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন, সংস্থাটির বায়ুমান ব্যবস্থাপনা উপপরিচালক মো. তাজমিনুর রহমান।

তার বিভাগের পরিচালক মোহাম্মাদ জিয়াউল হকের বরাতে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি ঢাকার বায়ুদূষণ বা ধুলি দূষণের পেছনে পাঁচটি বড় কারণ রয়েছে। শহরের আশপাশের ইটভাঁটা, রাস্তা খনন, ভবন নির্মাণ, কালো ধোঁয়া ও সিমেন্ট বর্জ্যই পুরো শহরকে ধুলিকবলিত করে ফেলছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আমরা বিভিন্ন সংস্থাকে চিঠি দিয়েছি। তাদের অনুরোধ করেছি দূষণের মাত্রা কমিয়ে আনতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি করতে।

তবে এ বিষয়ে দুই সিটি করপোরেশনকে উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করতে হবে। এই কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, তারা রাস্তা-ঘাট ঠিকমতো পরিষ্কার করছে না। তাদের বর্জ্য ব্যস্থাপনার দশাও বেহাল। কোনো কারখানা বা যানবাহনে থেকে কালো ধোঁয়া কতটুকু নির্গত হচ্ছে সে বিষয়েও তারা কোনো পর্যবেক্ষণ করছে না।

এদিকে ২০১৬ সালে ধুলি দূষণজনিত কারণে হয়ে যেখানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেখানে চলতি বছর কেবল রাজধানী শহরেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদও জানিয়েছেন, বায়ুদূষণ ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের মধ্যে ফেলছে নগরবাসীকে। সম্প্রতি এসব রোগের প্রকোপ বেশ বেড়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।