‘ছেলেধরা’ এই বাক্যটি কখন যে কোথায় গিয়ে আচড়ে পরে বলাই মুশকিল।গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার বেশ কটি ঘটনা ঘটেছে। ছেলেধরা অভিযোগে গণপিটুনিতে অনেকের নির্মম মৃত্যুও হয়েছে। ইদানীংকালের মতো অতীতেও গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, তবে সেগুলো প্রায়ই ছিল বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্ন। ঘটনাগুলোর ইদানীংকালের ধারাবাহিকতা প্রায় সবার মনে অনেক বেশি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আর কেনই বা দিবে না।এখন ছেলেধার এখন এমন একটা শব্দে পরিনত হয়েছে যেখান থেকে নিরাপদ নয় প্রতিবন্ধী থেকে শুরু করে বিজ্ঞ মানুষগুলো।আবার সেই তালিকায় যোগ দিয়েছে সুযোগ সন্ধনীরাও।
পাঠক বার্তাবাজার আজ সকালে খবর ছাপিয়েছিলো ‘স্বমী-স্ত্রী জগড়া, একে অপরকে ছেলেদার বলে চিৎকার’।পরে জনতার মারও খেয়েছেন।জায়গা মিলেছে থানায়।এটি ছিলো গাজীপুরের ঘটনা। এবার বগুড়ায় ঘটেছে একই ঘটনা।তবে একটু মার্জিত, কিছুটা সাজিয়ে।
বগুরার সারিয়াকান্দিতে পারিবারিক কলহের জেরে রিবুল হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে ছেলেধরা সাজিয়ে গণপিটুনীর আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তার স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় সারিয়াকান্দি থানার কাছে কাঁঠালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতার তিনজন হলেন- সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের চরগোসাইবাড়ি গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে পেশাদার ভিক্ষুক সিফাত প্রামাণিক (৪৬), তার স্ত্রী বিউটি বেগম (৩৬) ও মেয়ে শিরিন আকতার (২০)।
রিবুল হোসেন সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচি ইউনিয়নের গণকপাড়া গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় ভ্যানচালক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিবুল হোসেনের সঙ্গে কয়েক বছর আগে সদর ইউনিয়নের চরগোসাইবাড়ি গ্রামের সিফাত প্রামাণিকের মেয়ে শিরিন আকতারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুই বছরের একটি ছেলে আছে।
সংসারে অভাব ও দাম্পত্য কলহে শিরিন কিছু দিন আগে ভিক্ষুক বাবার বাড়িতে চলে যান। রিবুল স্ত্রী-সন্তানের খরচ না দিলেও মাঝে মাঝে শ্বশুরবাড়িতে এসে ছেলেকে দেখে যেতেন।
এদিকে শিরিন ও তার বাবা-মা রিবুলকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন। তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে রিবুলকে সারিয়াকান্দি থানার পাশে কাঁঠালতলা এলাকায় আসতে বলেন।
রিবুল সরল বিশ্বাসে সেখানে আসার পর তার ছেলেকে কোলে নিয়ে আদর করছিলেন। একপর্যায়ে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চান। তখন স্ত্রী শিরিন আপত্তি করেন। এ সময় হঠাৎ করেই শিরিন ও তার বাবা-মা ছেলেধরা বলে চিৎকার দিতে থাকেন।
মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের জনগণ সেখানে ছুটে আসেন। থানা থেকে পুলিশও আসে। এ সময় রিবুল পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। বিস্তারিত জানার পর পুলিশ রিবুলের স্ত্রী শিরিন, শ্বশুর সিফাত ও শাশুড়ি বিউটিকে গ্রেফতার করে।
সারিয়াকান্দি থানার ওসি আল আমিন জানান, পারিবারিক কলহে ভ্যানচালক রিবুলকে শায়েস্তা করতেই তাকে ছেলেধরা সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় তার স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/এএস