তাড়াশে ইউপি সচিবের কক্ষে তালা! দূর্ভোগে ৩৩ গ্রামের মানুষ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. রোজিন পলাশ সপ্তাহে দুদিন অফিস করেন। তাও আবার নিজের ইচ্ছে মতো। এদিকে,সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। ফলে সকল প্রকার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের ৩৩টি গ্রামের বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৯ জুলাই উপজেলার তালম ইউনিয়ন পরিষদের সবিচ পদে যোগদানের পর থেকে তিনি বেপরোয়া হয়ে চলাচল করেন। অভিযোগ রয়েছে ইউপি সচিব রোজিন পলাশ সপ্তাহের রোববার ও বুধবার কর্মস্থলে আসেন। তাও আবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বসেন অফিসে। অফিস প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা উড়ে না কর্মদিবসে।

সরজমিনে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১ টায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সেবা নিতে এসে সচিবের অনুপস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে শিকার হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ প্রতিনিয়ত ঘুরে যাওয়ার কারণে সচিবের অপেক্ষায় বসেই রয়েছেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় পার হয়ে গেলেও সচিবের দেখা মেলেনি অফিসে।

ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে আসা তালম শিবপাড়া রানার স্ত্রী বেদেনা খাতুন, ইউসুব আলী, জাহিদুরসহ অনেকেই জানান, তারা জন্ম নিবন্ধনের স্বাক্ষর নেবার জন্য পরিষদে আসলেও সচিবকে না পাওয়া আজকেও ফিরে যাচ্ছেন তারা। ইউপি সদস্য ইসহাক আলী জানান, তিনি কখনই নিয়মিত পরিষদে আসেন না। এ ব্যাপারে তালম ইউনিয়নের সচিব মো: রোজিন পলাশের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি গ্রামের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত খাচ্ছি। তিনি ছুটি নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন ছুটি নেয়নি কিন্তু চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।

সপ্তাহে দুদিন অফিস করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলুন আমি এসে আপনার সাথে দেখা করবো। তবে ইউপি চেয়ারম্যান আবাসউসজামান বলেন সচিব অফিসের কাজে ঢাকা গেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ওবায়দুল্লাহ বলেন, ইউপি সচিবের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ঘটনার সত্যতা পেলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তাবাজার/এসআর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর