নিজের বিয়ে ঠেকাল অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নিজের বাল্য বিবাহ ঠেকিয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। বিয়ের মাত্র একদিন আগে মঙ্গলবার পালিয়ে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে চলে যায়। তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা বদরুন্নেছার কাছে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে।

খবর পেয়ে স্থানীয় নারান্দী ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হয়। সাহসী মেয়েটি নারান্দী আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বুধবার ওই ছাত্রীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বর একই উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের জাকির হোসেন। কিন্তু এখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চায় না ওই স্কুলছাত্রী। সে আরও পড়াশোনা করতে চায়।

মঙ্গলবার বাড়ি থেকে পালিয়ে স্কুলে গিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা বদরুন্নেছাকে জানায়, তাকে জোর করে বাল্যবিবাহ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে পরিবার। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও নারান্দী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে জানান। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন এবং সব শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক থেকে ইউএনও মো. নাহিদ হাসানকে বিষয়টি জানালে তার পরামর্শে ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে স্কুলে ডেকে আনা হয়। এসময় মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না বলে মুচলেকা দেয় ছাত্রীটির পরিবার। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রধান শিক্ষক ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সালাহ উদ্দিন ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জোর করে ওই ছাত্রীকে বাল্য বিবাহ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। ছাত্রীটি খুবই সাহসী। নিজের চেষ্টায় তার বাল্যবিয়ে ঠেকাতে পেরেছে।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর