ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
মঙ্গলবার বেলা তিনটার পর কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও ডাকুস ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদিক্ষণ করে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এসে শেষ হয়। মিছিলে আখতারের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মল চত্বরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আখতারের ওপর হামলা করেন।
জানা গেছে, ঢাবির অধিভুক্ত সাত কলেজকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট সমাধানে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার আগে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশের আয়োজন করে ছাত্রলীগ।
সমাবেশ শেষে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন।
এ সময় মল চত্বর এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবস্থানকারী ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
হামলার বিষয়ে আখতার বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা গত কয়েক দিন ধরে ‘লাগাও তালা, বাঁচাও ঢাবি’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। আজ ছাত্রলীগ সমাবেশ করে যখন প্রশাসনিক ভবনে যায়, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ছিল। আমরা তাদের দেখার জন্য সেখানে যাই।
সেখানে ছাত্রলীগের রাব্বানী ভাই, শোভন ও সাদ্দাম ভাই ছিলেন। তারা স্মারকলিপি দেয়ার জন্য ভেতরে যায়। তখন আমরা পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেখান থেকে চলে আসার সময় জহুরুল হক হলের সহসম্পাদক রাব্বি আমাকে মারধর করে। এভাবে তারা আমার ওপর উপর্যুপরি হামলা করতে থাকে।
কেন তারা আমাদের মারবে। আমি ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলার জন্য আমার ওপর হামলা করার অথরিটি তাদের কে দিল। আমি অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ সময় হামলার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রসঙ্গত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজধানীর সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ সকালেও সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
বার্তাবাজর/আরএইচ