মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে সর্বত্র চলছে ছেলে ধরা আতঙ্ক। পাড়া-মহল্লা, ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে এই আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে গ্রামের শিশুরা এখন বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। ছেলেধরা আতঙ্ক এতোদূর পৌঁছেছে যে, অভিভাবকরা তাদের শিশু সন্তানদের শিক্ষকের কাছে অথবা একাকি স্কুলে যেতে দিচ্ছেন না। পারলে সঙ্গে নিজেরা যাচ্ছেন, অথবা দলবদ্ধ হয়ে পাঠানোর চেষ্টা করছেন।
উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সেলিনা ইসলাম রোপা বলেন, ভাই জানি এটা গুজব তবও ছেলে-মেয়েকে স্কুল পাঠাতে অনেক অভিভাবকই ভয় পাচ্ছে। আমার ১ ছেলে ১ মেয়ে ওরা নিজেরাই আগে স্কুলে যেতে পারত এখন ওদের একা ছাড়তে সাহস পাইনা তাই নিজেই সাথে যাই। ’
সিরাজদীখান উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: বেলায়েত হোসেন জানান, সিরাজদীখানে ১২৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল প্রধান শিক্ষকদের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা অভিভাবক সমাবেশ করে সকলকে সচেতন করার চেষ্টা করছে। ছাতিয়ানতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের মধ্যে ও আতঙ্ক কাজ করছে। তাঁরা একা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে তাই তাঁরা স্কুলে সন্তানদের দিয়ে যাচ্ছে ও নিয়ে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে গত ১ সপ্তাহ যাবত কমপক্ষে ৫জন ছেলে ধরার (অপহরণ) কথিত অপরাধে আটক করে পুলিশেও দিয়েছে এলাকাবাসী। যদিও বিষয়টিকে সম্পূর্ণ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে । পুলিশের দাবি, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের অসংলগ্ন কথাবার্তায় ধারণা করা যায় এরা বেশীরভাগই মানসিক ভারসাম্যহীন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিরাজদীখান থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, ছেলে ধরা বিষয়ে যা প্রচার হচ্ছে তার সবই গুজব । গেল ১ সপ্তাহে গ্রামবাসী ছেলে ধরা মনে করে যাদের আটক করে পুলিশে দিয়েছে তাদের মধ্যে ১ জনকে নারীও শিশু অপহরনের মামলা দিয়ে কোটে চালান করা হয়েছে তবে প্রকৃতপক্ষে বাকী যাদের আটক করা হয়েছিল তারা কেউই ছেলেধরা নন। এমনকি তারা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত এমন প্রমাণও মেলেনি। তিনি গুজবে কান না দেওয়ারও আহ্বান জানান সিরাজদীখানবাসীকে। তিনি আরো বলেন, যারা এ গুজব ছড়াচ্ছে তাদের সনাক্ত করার জন্য আমরা তৎপর আছি।
বার্তাবাজার/আরএইচ