সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের দোয়েল গ্রামের মৃত আজিজুর রহমান সরকারের কনিষ্ঠ পুত্র প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ১৯৮৫ সালে দোয়েল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,১৯৯১ সালে তারাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১৯৯৩ সালে রাজশাহী সরকারী কলেজ থেকে পড়াশুনা শেষ করেন।
এরপর বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি শেলসাম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এর কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন পাশাপাশি নিজের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করছেন। তিনি দুই মেয়ে ও এক পুত্র সন্তানের জনক।
তিনি নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকা কাজিপুর উপজেলায় মানবসেবায় অনন্য নিদর্শন স্থাপন করে যাচ্ছেন নিরবে নিভৃতে। সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সর্ববৃহৎ উপাসনালয় বাংলাবাজার মার্কাস মসজিদের সিংহভাগ অর্থ দান করেছেন এই প্রচারবিমুখ মানুষটি। গান্ধাইলে নিজের অর্থায়নে নির্মাণ করেছেন একটি গুচ্ছগ্রাম যেখানে যমুনা নদীতে সর্বস্ব হারানো প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার নিরাপদে বসবাস করে।
নিজ গ্রামের মানুষের জন্য বড় একটি কবরস্থানের জায়গা দান করেছেন এই দানবীর।
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবা করার জন্য “ভয়েস অব কাজিপুর” নামক জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন।তিনি এই অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে প্রতিবছর অসহায় গরীব মানুষদের জন্য দুই ঈদে ঈদসামগ্রী ও নতুন পোষাক,বন্যায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও জরুরী মেডিকেল ক্যাম্প,নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদাণ,বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান,অসহায় শীতার্তদের শীতবস্ত্র বিতরণ,প্রতিবন্ধীদের বিশেষ সহযোগীতা, ঔষধসহ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহযোগীতা ইত্যাদি নানা সেবামূলক কর্মকাণ্ড করে চলেছেন কয়েক বছর যাবৎ।
নির্যাতিত মুসলিম রোহিঙ্গাদের সহযোগীতা করতে উদার মনের বন্ধুদের নিয়ে গিয়েছিলেন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন সিরাজগঞ্জবাসির মধ্যমণি হয়ে উঠেছেন।কাজিপুরের দূর্গম চরাঞ্চলের মানুষের আর্তনাদের সাড়া দিতে বিন্দুমাত্র কৃপণতা করেননা এই নিরহংকার সাদা মনের মানুষটি। সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রকৌশলী সাখাওয়াত কখনো নৌপথে,কখনো পায়ে হেটে চলেছেন মাইলের পর মাইল,যতদূর পর্যন্ত একজন ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকারের শব্দ শোনা যায় ততদূর পর্যন্ত তার ক্লান্তিহীন ছুটেচলা।
এই অল্প বয়সে এমন কোন সামাজিক কর্মকাণ্ড নেই যা তিনি করেননি।আজ পর্যন্ত তার নেতৃত্বাধীন সামাজিক সংগঠন “ভয়েস অব কাজিপুর”এর কাছে আবেদন করে কেউ শুন্য হাতে ফেরত যায়নি।চলমান সময়ে এরকম মানবতার প্রেমিক খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর।বিত্তবান বন্ধু ও পরিচিতদেরকে এসব সামাজিক কাজে আগ্রহী করে তুলতে তার জুড়ি নাই।তাঁর এই অসাধারণ কর্মকাণ্ড দেখে অনেকেই উৎসাহিত হয়ে মানবসেবায় এগিয়ে আসছেন।তিনি বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে মানবতার ডাকে সাড়া দেবার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
মানব সেবার রোল মডেল প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন এর আজ জন্মদিনে যেভাবে গরীব দুঃখী মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তাতে ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে কিনা জানিনা তবে নিশ্চয়ই তার নাম হাজারো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হৃদয়ে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আজ তার জন্মদিনে কাজিপুরবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বার্তাবাজার/আরএইচ