এক সময় প্রত্যেক বাবা-মা স্বপ্নে দেখতেন তার সন্তান ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে।এখন আর সেই স্বপ্ন দেখেন না হয়ত অনেকে।স্বপ্ন এখন ছেলে ক্রিকেটার হবে। তা এক বাক্যে মেনে নেন সন্তানরাও।এমন ছেলে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে যে, ক্রিকেটার হতে চায় না। বাংলাদেশের অনেক কিশোর-তরুণ এখন ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। ক্রিকেট কিট ব্যাগটা কাঁধে তুলতে গিয়ে বইয়ের ব্যাগটা নামিয়ে রাখছেন কেউ কেউ। কিন্তু খেলাধুলা আর পড়ালেখা—দুটোই তো চলতে পারে সমানতালে।তার চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
লিটল মাস্টার শুধু ক্রিকেট আর পড়ালেখায় না।প্রিন্স অব বগুড়া কিন্তু সন্তানের বাবাও।তার মানে ঘর-সংসারও সামলাচ্ছেন এই উইকেট কিপার।আরো কিছু তথ্য জানলে হয়ত আপনার চোখ কপালে বসবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) স্নাতক, স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। ইতিহাসের ছাত্র মুশফিকুর রহিম এখন একই বিদ্যাপীঠ থেকে এম.ফিল করছেন। তার ইচ্ছে ভবিষ্যতে পিএইচডিও করবেন। পিএইচডির বিষয় অনেকটা ঠিক হয়ে আছে। মুশফিক গবেষণা করতে চান উপমহাদেশের ক্রিকেট ইতিহাস নিয়ে।
বর্তমানে মুশি দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় রয়েছেন।তবে তার আগে গেল বৃহস্পতিবার ছিল এমফিল কোর্সের একটি পরীক্ষা।পরীক্ষার আগ মুহুর্তে ক্যাম্পাসের মসজিদের বারান্দায় বসে পড়তে দেখা গেছে ইতহাসের এই ছাত্রকে।এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো তা এখন ভাইরাল।
স্বভাবতই তা নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। মসজিদের বারান্দায় বসে মুশির বইপড়ার প্রশংসা করছেন অনেকেই। শিক্ষার্থী ফরিদ আহমেদ জয় বলেন, একজন মানুষ কতটা বিনয়ী হলে এমনটি করতে পারেন। এটি মুশফিকুর রহিম বলেই সম্ভব।
মুশফিকের পিএইচডির বিষয় ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রিকেট’। এখন এ নিয়ে গবেষণামূলক এমফিল করছেন তিনি। পরীক্ষা দিয়েই বাংলাদেশ দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সফরে গেছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। তিন ম্যাচের দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ শেষে আগামী ৪ আগস্ট রয়েছে তার পরবর্তী পরীক্ষা।
মুশফিক জাবির ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। দুটিতেই প্রথম শ্রেণি পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর আগে জিপিএ-৫ পেয়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি।
শুধু ইতিহাস শাস্ত্রে ভালো দখল আছে বললে ভুল হবে। মুশফিক ২২ গজেও ইতিহাস রচনা করতে সিদ্ধহস্ত।গড়েছেনও।বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। মুশির জীবন শুধু স্ট্যাম্পের পেছনে নয়, তিন ফরম্যাটেই দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসাও তিনি।হয়েছেন পঞ্চপাণ্ডবের একজন।
বার্তাবাজার/এএস