রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা গুজব কেড়ে নিলো তাসলিমা বেগম রানু (৪০) নামে এক নারীর প্রাণ। উশৃঙ্খল কিছু যুবক পিটিয়ে হত্যা করলো তাকে। এরপর ভিডিওটি ভাইরাল হয়।বিশেষ মৃত ওই মহিলার ছোট্ট মেয়ে তুবার প্রশ্ন সবাইকে আবেগতাড়িত করেছে।যা হৃদয় কেড়েছে সুদূর শ্রীলঙ্কায় থাকা বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেনের।প্রত্যাশা করেছেন, দৃষ্টান্তমূলত শাস্তির।
সোমবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশের এই পেসার নিজের ফেসবুক পেজে হৃদয় নিংড়ানো একটি স্ট্যাটাস দেন।পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে দরা হল।
‘মা আসবে এখনো অপেক্ষায় শিশু, কিছু ঘটনা ভাষা হারিয়ে দেয়। ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত রেনু বেগমের মেয়ে তুবা অপেক্ষা করসিলো মায়ের জন্য।
তুবা, আম্মু কোথায় গেছে? নিচে গেছে
কি জন্যে গেছে? ড্রেস আনতে গেছে।
এই ড্রেসের অপেক্ষায় কতটা যুগ এভাবে কাটাতে হবে কেউ জানেন কী! তুবার হয়তো জানা হয়ে গেছে মা আর ফিরবেনা, সদা হাসিমুখে থাকা মেয়েটি মা হারানোর কষ্টে ফুঁফিয়ে কেঁদে উঠসিলো বারবার।
ছোট্ট নিস্পাপ এতিম তুবার এই অভিশাপ থেকে আমরা কেউ বাদ যাবোনা! সমাজের এই হায়েনা গুলোর হাতে একজন মায়ের এমন মৃত্যু মানতে কষ্ট হচ্ছে ভীষণ। আমি ধীক্কার জানাই উৎসুক জনতাকে এবং মূল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্থি প্রদান করা হউক।
মানুষ তুই মানহুষ হবি কবে।’
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে এই ঘটনার পর নিহত নারীর পরিচয় মিলেছে। তার নাম তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। তিনি আসলে ছেলেধরা ছিলেন না। মেয়েকে ভর্তি করানোর জন্য খোঁজ নিতে বাড্ডার ওই প্রাইমারি স্কুলে গিয়েছিলেন।
জানা গেছে, মহাখালীর ৩৩/৩ জিপি ওর্য়ালেস গেটের একটি ভাড়া বাসায় দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন তাসলিমা বেগম রেনু। তার স্বামীর নাম তসলিম হোসেন। গত দুই বছর আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এর পর থেকেই মহাখালীতে বসবাস করতে থাকেন রেনু।
ঘটনার পর ঢামেকে তাসলিমার লাশ নিয়ে যাওয়া হলে সনাক্ত করেন তার ভাগনে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু।এরপর অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫শ জনকে আসামি করেন টিটু।এখন পর্যন্ত তিনজকে আটক করেছে পুলিশ।
তিনি জানান, সন্তানকে ভর্তি করাবেন বলে উত্তর বাড্ডার ওই স্কুলে গিয়েছিলেন তার ছোট খালা। সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে এলাকার লোকজন। পুলিশ প্রশাসন থাকতে কীভাবে একজন নিরপরাধ মানুষকে খুন হতে হয়? এ ঘটনার ন্যায্য বিচার দাবি করেন তিনি।
বার্তাবাজার/এএস