অপবাদ দিয়ে ৪ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা

খুন হওয়ার আগে মুসলিম তরুণ তাবরেজ আনসারির বাঁচার আকুতি এখনো তাজা মানুষের স্মৃতিতে। ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে পেটানো হয় তাকে। ‘জয় শ্রীরাম’, ‘জয় হনুমান’ বলেও বাঁচতে পারেননি তাবরেজ।

ঘটনাটি ঘটেছিল ভারতের ঝাড়খণ্ডে। এবার সেই ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলার নগর সিসকারি গ্রামে ডাইনি অপবাদে চার বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানায়, শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন- সুনা ওরাওঁ (৬৫), পাগনি দেবী (৬০), চাপা ভগত (৬৫) ও পিরি দেবী (৬২)। পিরি দেবী চাপা ভগতের স্ত্রী।

জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত ওই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ঘর থেকে টেনে বের করে গ্রামের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই চার বৃদ্ধ-বৃদ্ধা নিহত হন।

সুনা ওরাওঁয়ের মেয়ে তদন্তকারী অফিসারদের জানান, শনিবার রাতে তাদের ঘরে দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে কয়েক জন। তার বাবাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় তারা। বাইরে থেকে তাদের ঘরের দরজা বন্ধ করে চলে যায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডে ডাইনি অপবাদে খুনের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে। এ বিষয়ে গ্রামের মানুষকে সচেতন করতে সরকার নানা রকম উদ্যোগ নিয়েছে। বেসরকারি সংগঠনগুলো এ নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু এরপর গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে।

বার্তাবাজার/আরএইচ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর