২১, নভেম্বর, ২০১৮, বুধবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

নারী ও শিশুসহ কুকুরের কামড়ে ছয়জন আহত

আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০১৮

নারী ও শিশুসহ কুকুরের কামড়ে ছয়জন আহত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি কুকুর নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে কামড়িয়ে আহত করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মির্জাপুর পৌর এলাকার কুতুব বাজারের বিভিন্ন স্থানে কুকুরটি পথচারীদের কামড়িয়ে আহত করে বলে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরে কামড়ানোর কোনো চিকিৎসা না পেয়ে রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে স্বজনদের। কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছুই করার নেই বলে জানা গেছে।

এতে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী, শিশু ও পথচারীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে কুকুর আতংক বিরাজ করছে। কুকুরের কারণে সাধারণ মানুষের পথচলা যেমন মুশকিল হয়ে পড়েছে তেমনি কোমলমতি শিশুরা ভয় পাচ্ছে স্কুলে যেতে।

জানা গেছে, কুকুরের প্রজননের সময় ঘনিয়ে আসায় মির্জাপুর পৌরসভাসহ উপজেলাব্যাপী কুকুরের আনাগোনা বেড়ে গেছে। কুকুর নিধনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় মির্জাপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, বিভিন্ন বাজার ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে দিনে-রাতে ১৫/২০টি করে কুকুর এক সঙ্গে দল বেঁধে চলাচল করছে। বিশেষ করে পৌর এলাকার পুষ্টকামুরী শফি উদ্দিন মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, পুষ্টকামুরী দক্ষিণ পাড়া, কুতুব বাজার, মির্জাপুর সাহাপাড়া, মির্জাপুর বাজারের কাঁচা বাজার, কালিবাড়ি রোড, কলেজ রোড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কুমুদিনী হাসপাতালের প্রধান ফটক, উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় কুকুরের দল আস্তানা করেছে।

উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের হাতে থাকা ক্রয়কৃত খাদ্যসামগ্রী নিতে কুকুরের হামলায় অনেক পথচারী আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এমনকি স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, একাকী পথচারী এবং অটোভ্যান, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীদেরকেও ওইসব কুকুর তাড়া করে কামড়ানোর চেষ্টা করছে।

মির্জাপুর বাজারের ওষুধ বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কুকুরের কামড়ে মানুষ মাঝে মধ্যেই আহত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কাউন্সিলর জানান, পৌর এলাকায় যে হারে কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে মানুষ প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসছে।

মির্জাপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর চন্দনা দে’র সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে কুকুরে কামড়ানো রোগীকে কোনো ভ্যাকসিন দেওয়া হয় না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিন, কুকুর বন্ধ্যাত্বকরণ পদ্ধতি বা জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধক ইনজেকশনের বরাদ্দ নাই। এ কারণে কুকুরে কামড়ানো রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।