১৯, নভেম্বর, ২০১৮, সোমবার | | ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

আমেজ না কাটতেই ছড়াচ্ছে উত্তাপ

আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০১৮

আমেজ না কাটতেই ছড়াচ্ছে উত্তাপ

ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ না কাটতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারাধীন মামলার রায়কে কেন্দ্র করে এই উত্তাপের সূচনা।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আহত হন তৎকালীন নারীনেত্রী আইভী রহমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ আগস্ট মারা যান তিনি। আইভী রহমানের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী মাসে গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২১ আগস্ট যে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের রায় হতে যাচ্ছে এতে বিএনপির অনেক নেতার জড়িত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তারা যদি দণ্ডিত হয় তবে বিএনপি কিছুটা সংকটে পড়বে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্য নিয়ে ঈদের ছুটিতেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তার ওই বক্তব্যের সূত্র ধরে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুর কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হয় ২১ আগস্টের রায়কে প্রভাবিত করার জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছেন। ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার রায় নিজেরা লিখে তা আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করাবেন কিনা- মানুষের মনে সে সংশয়ও এখন দেখা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, একটি ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে।’

রিজভী বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব গতকাল বলেছেন, ২১ আগস্ট মামলার রায় হলে সংকটে পড়বে বিএনপি এবং আগামী সেপ্টেম্বরে সে রায় হবে। কাদের সাহেবের বক্তব্যেই পরিষ্কার যে, তারা নীল নকশা অনুযায়ী ২১ আগস্টের বোমা হামলা মামলার রায় নিয়ে আগাম কাজ করছেন এবং সে জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কূটচাল চালছেন তারা।’

বিএনপি নেতার এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের অভিযোগ, ভুক্তভোগী হিসেবে আওয়ামী লীগের এই অভিযোগ। তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের মদদে ওই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। হাওয়া ভবনে বসে হামলার পরিকল্পনা হয়। হামলার অন্তরালে বিএনপির অনেক নেতাই জড়িত ছিল।

এদিকে শনিবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২১ আগস্টের কিলিংয়ে প্রধানমন্ত্রী টার্গেট ছিলেন। বিএনপি তখন ক্ষমতায়। সারাদেশ জানে, হাওয়া ভবনের পরিকল্পনার কথা। এগুলো এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। বিএনপি তো দায় এড়াতে পারে না।’

‘ঘটনা যা ঘটেছে সেই আলোকেই রায় হবে। ওই ঘটনায় কারা জড়িত সেটা বিচার বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে। বিচার বিভাগ স্বাধীন। এখানে কোনো হস্তক্ষেপ নেই।’

বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ‘শুধু ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় নিয়ে নয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির জনককে হত্যার সঙ্গে যারা জাড়িত ছিলেন তাদের অনেকের বিচার হয়েছে। ওই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তাদের অনেককে এখনও বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।’

‘আমরা তো তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য বলবোই। আর বিএনপি যেটা বলছে, এটা একটা ফরমায়েশি রায় হবে- এমনটা হলে তো অনেক আগেই রায় হয়ে যেত। তাহলে কেন রায়ের জন্য এত দেরি করা হলো?’

গত ১৯ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ঘোষণা দেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারিক আদালতের রায় দেয়া সম্ভব হবে। এ রায় হলে দেশ আরও একটি দায় থেকে মুক্তি পাবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে ১৭ জন পলাতক। এ মামলায় আদালতে ২২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা নিয়মতান্ত্রিকভাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারের ব্যবস্থা করেছেন।

এ মামলায় তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তথ্যসূত্র : জাগোনিউজ২৪.কম