দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটবে

আইনি লড়াই নয় বরং ‘দুর্বার আন্দোলন’ ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় বিএনপি। আজ শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর নুর আহমদ সড়কে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিএনপির নেতারা।

সমাবেশে বিএনপির নেতারা বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে না। তারেক রহমানকেও দেশে আসতে দেবে না। তাই দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে সমাবেশে অংশ নেওয়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ বক্তব্যে বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ সরকারকে উৎখাত করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এজন্য আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। গ্রামে গ্রামে পাড়ায় মহল্লায় যেতে হবে। খালেদা জিয়ার মামলা কোনো মামলাই না।

সরকারের একদলীয়করণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি আজ কারাগারে। তিনি ঠিকমতো খেতে ও চলতে পারেন না।’সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একদিকে সরকার খালেদা জিয়াকে জেলে বন্দি রেখেছে, অন্যদিকে মিথ্যা মামলার কারণে তারেক রহমান বিদেশে আছেন। সরকার বিচার বিভাগ, পুলিশ ও প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে।

গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রন করছে। ফলে গণমাধ্যমকে সরকারের খুশিমতো খবর প্রচার করতে হয়।’‘আওয়ামী লীগ জনগণকে ভয় পায়’ উল্লেখ করে ফখরুল আরও বলেন, ‘এ কারণেই তারা বর্তমান অবস্থা তৈরি করেছে। ১৯৭৫ সালে সংবিধানকে কেটে টুকরো টুকরো করে একলীয় সরকার কায়েম করেছিল।

তখন জনগণই তাদের রুখে দিয়েছিল। দেশের সবখানে নৈরাজ্য। আদালতে খুন করা হচ্ছে দিনে-দুপুরে। সবখানে কেবলই নির্যাতন আর নিপীড়ন। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় গিয়েছে বলেই জনগণের কাছে এ সরকারের কোনো জবাবদীহিতা নেই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘খালেদার মুক্তি ও হাসিনার পতন একই সূত্রে গাঁথা। সরকার জামিন না দিয়ে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। খালেদা জিয়াকে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সাজা দেওয়া হয়। অথচ সেই টাকা ব্যাংকেই আছে। এখন তা সুদে আসলে ৬ কোটি টাকা হয়েছে।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আহমদ বলেন, ‘এ সরকার দাবি করে; বিএনপিকে তারা নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। বিএনিপকে ধ্বংস করা সরকারের এজেন্ডা। কিন্তু শতবছরেও তা তারা পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন দেশে ৬-৭ জন শিশু ধর্ষিত হয়। আদালত ও পুলিশ কীভাবে চলে এটা তার প্রমাণ। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরৎ না পাঠিয়ে নোয়াখালীর চরে তাদের স্থায়ী আবাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।’ এই ব্যর্থতার জন্য সরকারকে দায়ী করে পদত্যাগের দাবি করেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা সরকারের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে পারলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। কারণ, শেখ হাসিনা একাধারে বিচারপতি, তিনিই পুলিশের আইজি, তিনিই দুদকের চেয়ারম্যান। কাজেই যারাই খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাঁধা হবে, তাদেরকেই ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিচার পাবার সম্ভাবনা নাই। তাই তার মুক্তির জন্য সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। আমরা বিচার পাব না জেনেই বিচার কার্যে গিয়েছি। নির্বাচনে ভোট চুরি হবে জেনেও নির্বাচনে গিয়েছি। কারণ বিশ্ব যাতে জানতে পারে আমাদের অধিকার চুরি হয়ে গেছে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিচার যেসব আদালতে চলছে, সেসব আদালতের জজ সাহেবদের অনেকে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতি করেছেন। ফলে আমরা সেখানে জামিন পাই না। এভাবে আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রনে।’

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কামটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনিপর সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, গোলাম আকবর খন্দকার, ড. সুকুমার বড়–য়া, এসএম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল, মাহবুবুর রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগরের আবু সুফিয়ান আবু বক্কর, আফরোজা আব্বাস, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভ‚ইয়া প্রমুখ।

সকাল ১১ টা থেকে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশস্থল ছাড়াও নগরী কাজীর দেউরি, এনায়েত বাজার, লাভ লেন ও আশেপাশে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বার্তা বাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর