প্রিয় পাঠক, শিরোনাম দেখে হয়ত চোখ কপালে বসেছে।কিন্তু বাংলাদেশে এমন চোখ কপালে উঠার মতো গল্প নতুন নয়।আমরা বুঝেশুনেও বার বার সেই ফাঁদে পা দিচ্ছি।এবার বেহেস্তের টিকিট দেয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জমি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের অনুষ্ঠান তালাশের একটি পর্বে এ অভিযোগের কথা উঠে আসে।
সংগঠনটির সভাপতির নাম মনির উল্লাহ। সে নিজেকে পীর বলেও দাবি করেন। চট্টগ্রামের রাউজানের কাগতিয়া ইউনিয়নে কাগতিয়া মুনিরীয়া দরবার শরীফও আছে।
স্থানীয় গৃহবধূ জাহানারা বেগম বলেন, আমাদের বসতভিটার জায়গা আমার শাশুড়িকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে। তারা বলেছিল, বেহেস্তের টিকিট দিবে। কিন্তু বেহেস্তের টিকিট তো পাইনি।
শুধু জাহানারার শাশুড়ি নন, বেহেস্তের টিকিটের আশায় সংগঠনটিকে আরো অনেকেই এভাবে জমি দান করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় একজন যুবক বলেন, ওরা বলেছিল বেহেস্তের টিকিট দিবে। তাই আমার আম্মু বেহেস্তের টিকিট পাওয়ার আশায় জমি দান করেন।
এদিকে, মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটিকে একটি উগ্র ও জঙ্গিবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকে কেউ জমি দিতে রাজি না হলে জবর দখল করে সংগঠনটি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস ছালাম বলেন, দক্ষিণ পাশের একটি জায়গা আমার বাবার সম্পত্তি। মনির উল্লাহ জোরপূর্বক ওখানে ভরাট করছে। এগুলো কি পীরের কাজ? আমি বাধা দিলে বলে, সব লোকেই বেহেস্তের জন্য জায়গা দেয়।
মালিকানার প্রমাণ হিসেবে জমির দলিলও দেখান আব্দুস ছালাম। যেখানে দেখা যায়, ৪৩৪ নম্বর খতিয়ানের ১৩৬০ নং দাগের জমির মালিকের জায়গা আব্দুস ছালামের নাম রয়েছে।
স্থানীয় আরো কয়েকজন বাসিন্দা ছাড়াও কয়েকজন প্রবাসী বলেন, তরিকতের নাম দিয়ে তারা চাঁদাবাজি করে।
দুবাই প্রবাসী আলমগীর হোসেন বলেন, রাউজানের যত প্রবাসী আছে ধর্মের কথা বলে সবার কাছ থেকে টাকা নিত তারা। যখন শুনি তারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করছে, তখন টাকা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছি।
এমন শতশত প্রমাণ রয়েছে সেই বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের তালাশ কমিটির হাতে।কিন্তু আমাদের সচেনতা কোথায়?মনের আশা পূর্ণ হবে বলেও তো আমরা কত গোসল ছাড়া বাবা, নাম না জানা মাজার এবং বেনামে পীরদের কাছে গিয়ে ভিড় জমাই। কিন্তু বিশ্বাস রাখতে বেশ কষ্ট হয় সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর।
মনে রাখবেন আল্লাহর দেয়া বিধান ছাড়া আপনার মুক্তির দ্বিতীয় কোন পথ নেই।কোন মাজার, কোন পরিচয়হীন পীর বা কোন বাবা আপনার লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যম হতে পারে না।
বার্তাবাজার/এএস