১৩, ডিসেম্বর, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউস সানি ১৪৪০

পঁচে গলে অর্ধমৃত হয়ে আরো মর তুই

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৮

পঁচে গলে অর্ধমৃত হয়ে আরো মর তুই

আমি শুধু ভালোবেসেছি। একলা লড়াই চালিয়ে গেছি দাঁতে দাঁত চেপে সমগ্র পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধাচরণ করে। আজো আসাদের মুক্তিতে কিছু পুরুষ তাদের হিংস্র নখ, দাঁত, কালো কর্কশ চেহারা নিয়ে তেড়ে এসেছে আমার দিকে সেই আসাদের জামিনের সময় থেকে। শুরু থেকেই কয়েকশ পুরুষের চোখরাংগানি সহ্য করে লড়াই চালিয়ে গেছি। কখনো দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে পুরো। কিন্তু থামিনি। হারিনি। প্রিয়মুক্তি ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য। আজ আমার লড়াইকে তাদের নিজেদের লড়াই বলে না চালাতে পেরে আমাকে চরিত্রহীনা বলে গালি দিয়ে আসাদকে বলে- এ হল মিথ্যা ভালোবাসার জাল!

আসাদ জানে, আমি জানি, এই ক্রান্তিকাল জানে, ঢাকা শহর, কাশিমপুর, গাজীপুর আইন প্রশাসনের মানুষরা, আমাদের সমমনা সহযোদ্ধারা জানে আমাদের এই ঘাম, রক্তের সংগ্রামের কথা। নিজেদের স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে কিছু না-সুখী হিংস্র মানুষ অতি সহজেই আমাদের মত মেয়েদের চরিত্রহীন বলে এক অদ্ভুত অর্গাজম এর তৃপ্তি অনুভব করে। এরা দেখতে লাগে পুরুষেরই মত। কিন্তু লড়াকু মেয়ে দেখলে এদের পুরষকার টলে মলে ভিজে যায়। সেই সাবেক আমল থেকেই তো এইভাবেই পুরুষ নামের পুরুষগুলো অন্যের বাড়ীর লড়াকু নারীদের চরিত্রহীন বলে নিজের বাড়ীর বউ, মা, মেয়েদের শ্রেষ্ঠত্ব দেয়। এই অন্যের বাড়ীর মেয়েটাও যে কারুর মা, কারুর বোন, কারুর মেয়ে সে বোধ হারিয়ে ফেলে অন্যের মেয়েকে চরিত্রহীন বলার তীব্র অর্গাজমের সুখের আনন্দে। ধিক শত ধিক এই নোংরা মুখোশধারী পুরুষদের। তোদের পদদলিত করেই আমাদের যুগে যুগে জয়যাত্রা বহমান ছিল, আছে, থাকবে।তোদের মত কুলাঙ্গারদের আমরাই জন্ম দিই। আমরাই তো প্রকৃতি। তোরা শেষও হবি প্রকৃতির হাতে। তুই আমাকে যত বেশী চরিত্রহীন বলবি আমি নিজেকে তত বেশী ভালোবাসবো। আমার ভালোবাসার জয়েই তোর অবিরাম ক্ষয়। পঁচে গলে অর্ধমৃত হয়ে আরো মর তুই।