ভারতে বিরোধী দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে শুক্রবার থেকে আটক করা হয়েছে। ভারতের উত্তরপ্রদেশে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০ জন খুন হওয়ার পর ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে তাকে রাজ্যের মির্জাপুর থেকে আটক করেছে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ। আটক করার পর তাকে চুনার দুর্গের অতিথিশালায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ থেকে বিয়াল্লিশ বছর আগে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর দাদি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকেও এভাবেই আটক করা হয়েছিলো। এ ঘটনার মাত্র তিন বছরের মাথায় ফের ক্ষমতায় এসেছিলেন ইন্দিরা। এবার প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকের ঘটনার মধ্যেও অনেকে সেই ঘটনার ছাপ দেখতে পাচ্ছেন।
ভারতে এবারের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয় ও রাহুল গান্ধীর পদত্যাগের পর ছন্নছাড়া অবস্থা কংগ্রেসের। এমন এক পরিস্থিতিতে মোদি সরকারকে বড় ঝাঁকুনি দিলেন প্রিয়াঙ্কা।
গত বুধবার উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রা গ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে যে ১০ জন নিহত হন তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার সেখানে যাচ্ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কিন্তু মাঝপথে তাকে আটক করা হয়। উত্তরপ্রদেশে অপরাধ বৃদ্ধি ও আইনের শাসন নেই বলে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা।
সোনভদ্রা যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হলে মির্জাপুর নামক এলাকার রাস্তায় বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। তার সঙ্গে থাকা অন্য কংগ্রেস কর্মীরাও তার পাশেই বসে পড়েন। তাদের ঘিরে থাকেন প্রিয়াঙ্কার নিরাপত্তারক্ষীরা। প্রিয়াঙ্কা সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আটক করে সরকারি গাড়িতে তোলা হয়। তাকে চুনার দুর্গের অতিথিশালায় রাখা হয়েছে।
এ ঘটনার নিন্দা করে কংগ্রেস বলেছে, আটক নয়, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক টুইটারে রাহুল বলেন, ‘প্রিয়াঙ্কার অনৈতিক গ্রেফতার উদ্বেগজনক। ১০ জন আদিবাসী কৃষককে নির্মম ভাবে গুলি করে মারা হয়েছে। তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়া ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারিতা।’
বার্তাবাজার/কে.জে.পি