মানুষ নাই, লোক নাই, জন্মসনদ নিতাম হারিনা(পারিনা), হত্তেককদিন(প্রতিদিন) আই আই(এসে) হিরি যায়( ফিরে যাই) এমন ভাবেই মনে কষ্টের কথা বলেন পৌরসভায় বিভিন্ন সুবিধা নিতে আসা সাধরণ মানুষ। কেউ আসেন কর দিতে, কেউ জন্মসনদ, কেউ মৃত্যু সনদ নিতে, কেউ ট্রেডলাইসেন্স কেউবা আবার জমি সংক্রান্ত সার্ভেয়ারের কাছে আসেন। এসেই প্রতিটি কার্যালয়ের কক্ষে তালা বন্ধ দেখে ফিরে যান। অনিদিষ্টকালের জন্য এই আন্দোলনে গত ৪দিন যাবত এভাবেই নাগরিক সুবিধা থেকে বি ত পৌরসভার হাজার হাজার মানুষ। প্রতিদিন দূর থেকে এসে সুবিধা না পেয়ে হয়রানী শিকার হচ্ছে তারা। পৌরসভার সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায় কর বিভাগ, প্রকৌশলী বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে তালাবদ্ধ রয়েছে। সুবিধা নিতে আসা ছুটাছটি করছে এদিকওদিক। ফাঁকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ার টেবিল।
জানাগেছে, সরকারী কোষাগার থেকে বেতন ভাতা প্রদান ও পেশন চালুসহ বিভিন্ন দাবীতে আন্দোলন করে আসছে পৌরকর্মীরা। তারই ধারাবাহিকতায় সকল দাপ্তরিক কার্যক্রমসহ মানুষের সেবা বন্ধ করে দিয়ে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে প্রতিদিন হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নাগরিক সুবিধা নিতে আসা স্থানীয়রা।
পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাগর জানান, গত ৩দিন থেকে পৌরসভায় এসে জন্মনিবন্ধনের কাজ করতে পারেনি। ঢাকায় কর্মচারীরা আন্দোলন করে। তাদের আন্দোলনের কারণে আমরা কঠিন ভোগান্তিতে রয়েছে বলে জানান তিনি। এভাবে সাগরের মতো পৌর বাসিন্দারা ভোগান্তিতে আছে।

এবিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারী পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের পৌর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, মানুষের কষ্ট হোক আমরা চাইনা। মানুষের সেবা করতেই আমরা পৌরকর্মীরা আছি। কিন্তু আমাদের সুযোগ-সুবিধা পাইনা। আমরা আমাদের দাবীতে সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম তেকে বিরত আছি, দ্বীর্ঘদিন থেকে তাদের এই আন্দোলন চলে আসছে বলে জানান তিনি। এরিমধ্যে সরকারের নিকট বিভিন্ন দাবী দাওয়া দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন দাবী মানা হয়নি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দুই নীতি আমরা মানিনা, মানবোনা। পৌর কর্মচারী কর্মকর্তাদের শতভাগ বেতন-বাতা ও পেনশন প্রদান করতে হবে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অন্যান্য সুবিধা দিতে হবে। তাহলে আমরা সকল কার্যক্রম পূর্বের ন্যয় করবো। এবং কেন্দ্রীয় সিদান্তের আলোকে আমরা সবই করবো।
তবে দ্রুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবী মেনে নিয়ে কিংবা তাদের আশ্বস্ত করে পৌরবাসীর ভোগান্তি লাঘব করবে। এমনটাই প্রত্যাশা
ভুক্তভোগীদের।
প্রতিনিধি/বার্তাবাজার/আরএইচ