বগুড়ার শেরপুরে শাহবন্দেগী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কর্তৃক উদ্যোক্তার মারপিটের ঘটনায পুলিশ তদন্তে সাক্ষ্য দেয়ায় গ্রাম পুলিশকে মারপিট করে চেয়ারম্যান ও তার বাহিনী। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ১২জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিলে গত বৃহস্পতিবার রাতে ৩জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
জানা যায, উপজেলার শাহ বন্দেগী ইউনিয়নে গত ১৪ জুলাই জন্ম নিয়ন্ত্রন সনদপত্র দেয়াকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আল-আমিন মন্ডল একই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা কায়েস ও তার ছোট ভাইকে মারপিট করে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে থানা পুলিশের এসআই ওসমান গনি ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য গেলে সেখানে মারপিটের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা থাকার কথার সত্যতা স্বীকার করেন ইউনিয়নের নিযুক্ত কয়েকজন গ্রাম পুলিশ। একই দিনে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি মারপিট শুরু করে। এতে একই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ হাসান আলী, ফরিদুল ইসলাম গুরুতর হয়। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ওই গ্রাম পুলিশরা বিচার না পাওয়ায় গত ১৫ জুলাই রাতে গ্রাম পুলিশ এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবু সাঈদ বাদি হয়ে সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত নাজমুল, দিলশাদ, আনিছ নামের ৩জন আটক করে।
এ ব্যাপারে গ্রাম পুলিশ এসোসিশেয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার না পেলে, আমাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তীতে আন্দোলন, মানবন্ধন কর্মসুচী সহ নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
এ ঘটনায় ৩জনকে আটকের সত্যত্যা স্বীকার করে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ন কবীর বলেন, বিষয়টি আরও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।