আজ সোমবার বিকাল ৩:৩৩, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

মিরপুরে বৃদ্ধা খুন, গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭ , ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : অন্যান্য
পোস্টটি শেয়ার করুন

রাজধানীর মিরপুরের মনিপুরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তার স্বজনরা। পুলিশ গৃহবধূর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। এছাড়া,মিরপুরের বড়বাগে এক বৃদ্ধা খুন হয়েছেন। রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরে এক নিরাপত্তাকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

মিরপুর থানা পুলিশের এসআই আতিকুর রহমান জানান, রবিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে পূর্ব মনিপুরের একটি বাসার ড্রইং রুমের মেঝে থেকে তাসলিমা সুলতানা ইভা (৪৪) নামের এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী মো. মনিরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

এসআই আতিকুর রহমান আরও জানান, ইভার মাথার তালুর ওপরের সামনের অংশে রক্তাক্ত কাটা জখম ছিল। এছাড়া, গালের ডান পাশে জখম ও মুখের ডানপাশ থেকে রক্ত নির্গত হতে দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে নির্যাতনের কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের পরই বিস্তারিত বলা যাবে। ইভার বড় ভাই আলী আজগর টুটুল জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইভার স্বামী আমাদের জানায়, ইভা আত্মহত্যা করেছে। আমরা বাসায় গিয়ে দেখি বোন মেঝেতে পড়ে আছে। তার মাথায় এবং জানালার পাশে ও ঘরের আরও কয়েক স্থানে ফোটা ফোটা রক্ত পড়ে আছে। তার দুই সন্তান ইমরান (৭) ও ইহান (৫)। ইভার স্বামী গাজীপুরে কোনাবাড়ী একটি বায়িং হাউসে চাকরি করেন।

মিরপুরের বড়বাগে ছাবিয়া বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা খুন হয়েছেন। পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, গত শনিবার রাতে কে বা কারা ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। এসআই বলেন, নিহতের শরীরের গলার নিচে ৪টি রক্তাক্ত কাটা জখম ছিল। এছাড়াও মাথার ডান পাশ ও গলার ডান পাশে ছিলা জখম ছিল। স্বজনদের বরাত দিয়ে এসআই আরও বলেন, ওই বাসায় বৃদ্ধার মেয়ে রুমা ও নাতি থাকতেন। রুমা গার্মেন্ট কর্মী। রুমা কর্মস্থল থেকে রাতে মিরপুরের বড়বাগ ১/১৮ নম্বর ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখতে পান তার মা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। তবে কী কারণে বা কারা তাকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে পুলিশ কোনও তথ্য জানাতে পারেনি।

এছাড়া, গুলশানের কালাচাঁদপুরে মতিউর রহমান (৫৪) নামের এক নিরাপত্তাকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে তার সহকর্মীরা ধারণা করলেও স্বজনদের অভিযোগ তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তার মৃতদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার স্বজনরা নিয়ে গেছেন। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসেদপুর উপজেলার তাড়াইল গ্রামের মৃত মানিক মোল্লার ছেলে।

গুলশান থানার এসআই বেলাল হোসেন জানান, মতিউর রহমান গুলশানে পিসট্রিম সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। থাকতেন ক/৪২/সি কালাচাঁদপুর এলাকার একটি মেসে। শনিবার সকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সহকর্মীরা তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তার মৃতদেহ বাড়ি পাঠানোর জন্য কফিনে রাখা হয়। এ অবস্থায় নিহতের ভাতিজা তৌহিদুর রহমান তার চাচার মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ঈদের আগেও বেতন নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চাচার ঝামেলা চলছিল। কোনও কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে। এ অবস্থায় পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।