ঘরের ভেতর বুকপানি। পানিতে থইথই করছে উঠান,বারান্দা। আঙিনায় বইছে স্রোত। পানিতে ভিজে গেছে চাল-ডাল,বিছানা-বালিশ। পানিবন্দী ঘর থেকে ভেজা কাপড়ে গাভীর বাচ্চাকে পিঠে নিয়ে বের হয়ে এলেন কৃষক।
পিঠের ওপর গাভীর বাচ্চা ঘরের বাইরে ডিঙি নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছেন অন্য কেউ । নৌকায় ঘটি,বাটি,বিছানা,বালিশ। যমুনার পানিতে তলিয়ে যাওয়া বসতঘরে বন্দী থাকার পর জলে ভিজে নিরন্তন সংগ্রামে জয়ের আশায় এগিয়ে যাচ্ছেন আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র।
পানিবন্দী এই দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেল বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে যমুনা নদীর দুর্গম কাজিপুরের চরে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির ফলে যমুনা নদীর পানি বেড়ে সিরাজগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৯ শত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ফসলি জমি।
জানা যায় এ পর্যন্ত কাজীপুর,সিরাজগঞ্জ সদর,বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার পাঁচটি উপজেলার ৯৩৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ২১ হাজার ৫৫২ পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এ দিকে বন্যা কবলিতদের বিতরণের জন্য ৪৯৪ টন চাল ও আট লাখ টাকা মজুদ রাখা হয়েছে বলে জানান জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,পানিবন্দি মানুষ গবাদি পশু আর আসবাপত্র নিয়ে বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে ঝুপড়ি ঘর তুলে রাত যাপন করছেন তারা। এছাড়া পানি ফুঁসে ওঠায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর-ধুনট সড়ক দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং তলিয়ে গেছে অনেক ফসলি জমি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) হাবিবুল হক জানান,জেলার প্রায় ৬ হাজার চারশ হেক্টর জমির পাট,রোপা আমন,আউশ ও সবজির ক্ষেতে পানি উঠেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর পানির প্রবল স্রোতে কাজীপুর উপজেলা পরিষদের নির্মিত রিং বাঁধের অন্তত ৬০ মিটার এলাকা ধসে নতুন নতুন এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন,বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নয়। এটি কাজীপুর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছিল। এই মুহুর্তে সেটি মেরামত করা সম্ভব না। আমাদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখন পর্যন্ত ঠিক রয়েছে। কোন সমস্যা নেই।
বার্তাবাজার/এসআর