সম্প্রতি ছাত্রদলের কাউন্সিলের জন্য দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে সার্চ কমিটির নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই অবস্থায় সার্চ কমিটির নেতারা, ঈদের আগে ছাত্রদলের কাউন্সিল করার টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছেন। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে ঈদের পড়ে কাউন্সিল করা হবে।
সার্চ কমিটির একাধিক নেতা জানান, তারা ছাত্রদলের ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতেও বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। কিন্তু বৈঠকে কখনো কখনো পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এভাবে প্রায় তিন ঘন্টা সার্চ কমিটির সাথে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের কথা হয়। এই আলোচনায় ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতারা সার্চ কমিটির নেতাদের নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছেন। কখনো সার্চ কমিটির নেতারাও উত্তপ্ত হয়ে উঠেন। বিক্ষুব্ধ নেতাদের একটি অংশ স্লোগানও দেয় সার্চ কমিটির বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে এক পর্যায়ে সার্চ কমিটির নেতারা কোনো সমাধান না দিয়ে ওই বৈঠকের সমাপ্তি টানেন।
সার্চ কমিটির নেতারা জানান, আমরা বিক্ষুব্ধ নেতাদের সাথে বৈঠক শেষ করে তারেক রহমানের সাথে কথা বলেছি। আমরা তারেক রহমানকে সর্বশেষ অবস্থা জানালে তিনি চরম ক্ষুব্ধ হন এবং কাউন্সিল করতে নির্দেশ দেন। আমরা তাকে বলেছিলাম, সমস্যা সমাধান না করে ছাত্রদলের কাউন্সিল করলে আগের পরিস্থিতি তৈরি হবে। আমরা তারেক রহমানকে বলেছি, ক্ষুব্ধ নেতাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নেতাকর্মীকে ম্যানেজ করা সম্ভব হয়েছে।
বাকিদের ম্যানেজ করতে আরও কিছুদিন সময় চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যা করার আমিই করবো। গত আড়াই থেকে তিন মাস আপনাদের দায়িত্ব দিলেও আপনারা কিছুই করতে পারেননি। এই কয়েকটি ছেলের কাছে যদি দল জিম্মি হয় তাহলে ভবিষ্যতে রাজনীতি কীভাবে করবেন?
প্রসঙ্গত, তফসিল অনুযায়ী গত ১৫ জুলাই ভোটের মাধ্যমে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিক্ষুব্ধদের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
বার্তাবাজার/এএস