জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে তার রংপুর-৩ আসন শূন্য ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সৌজন্য রক্ষায় প্রকাশ্যে কিছু না বললেও এরশাদের এ আসন থেকে কে নির্বাচন করবেন এ নিয়ে ইতোমধ্যে জাপায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
অনেকেই উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহের কথা নানাভাবে জানাচ্ছেন। তবে দলের চেয়ারম্যানের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগে এ নিয়ে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে নারাজ ওই আসনের প্রার্থিতাপ্রত্যাশী ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ধারণা- এ উপনির্বাচনে সাদকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর ও এরশাদের ভাতিজা সাবেক সাংসদ হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফও এই আসন থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের গতকাল বুধবার বলেন, আমরা আপাতত এ নিয়ে ভাবছি না। আমাদের দলের চেয়ারম্যানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ আমাদের শোক কাটিয়ে ওঠার তৌফিক দিলে তারপর দলীয় ফোরামে এ নিয়ে আলোচনা করব।
এই আসনে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগেরও প্রার্থী হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা চৌধুরী খালেকুজ্জামান গত তিনটি নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে বাদ পড়েন। তাই ধারণা করা হচ্ছে এবার তিনি মনোনয়ন পাবেন।
অন্যদিকে, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউর রহমান শফি ও সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি ম-লও প্রার্থী হওয়ার আকাক্সক্ষা পোষণ করছেন বলে জানা গেছে। তবে দলগতভাবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান দলের রংপুর বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমাদের দলের কেউ যদি প্রচার চালিয়ে থাকেন তা হলে সেটা তার একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ১৯৯১ সালের পর থেকে এই আসনে জাতীয় পার্টির বাইরে শুধু ১৯৯৬ সালে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেন। ফলে জাপা নেতাকর্মীদের দৃঢ়বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রচার চালালেও এরশাদের জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে অবশেষে তারা সরে দাঁড়াবেন।
বার্তা বাজার/কেএ