ডিবি’র অভিযানে অভিনেতা অনন্ত জলিলের টাকা উদ্ধার, আটক ২

ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) অভিনেতা ও পরিচালক অন্তত জলিলের ৫৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া প্রাইভেটকার চালক শহীদুল ইসলাম শহীদের ভোলার দৌলতখান উপজেলার মধ্য জয়নগর গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্ত্রীসহ তাকে গ্রেফতার করেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ২৮ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে মাটির নিচের গর্ত থেকে। অপর ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে বাংলাবাজার ইসলামী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক শাখা থেকে।

জানা যায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বিপিএম (বার) পিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল বাশার, পিপিএম এর নেতৃত্বে গত ১৬ জুলাই এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে ভোলা থেকে মামলার এজাহারভূক্ত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে, সাভার মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলায় অনন্ত জলিলের ড্রাইভার শহীদুল ইসলাম শহীদকে প্রধান আসামী করা হয়।

ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল বাশার জানান, গত মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার করা নগদ ২৫ লাখ টাকা তাদের হাতে রয়েছে। বিকেলে কার চালক শহীদের স্ত্রী আরজু বেগম ব্যাংক থেকে টাকা তুলে পালাতে চেষ্টা করলে টাকাসহ তাকেও আটক করা হয়। তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাকী টাকাও উদ্ধারের আশা করছেন তারা।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে দৌলতখান থানার অফিসার ইনচার্জ এনায়েত হোসেন জানান, গতকাল (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৮ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। আরো টাকা উদ্ধারে ভোলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে ভোলা জেলা ডিবি জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, আটক শহীদ তার বাড়িতে পাকা ভবন করার কাজ শুরু করেছে। অপরদিকে বাড়ির ভেতরে একটি গর্ত করে তাতে পলিথিনে ভরে ২০ লাখ টাকা পুঁতে রাখে। এমন কি ওই গর্তের উপর সিমেন্ট ঢালাই দিয়ে ইটের দেয়ালও তৈরি করে। ডিবি’র সদস্যরা যখন ওই গর্ত থেকে টাকা তুলে তখন টাকা থেকে পঁচা গন্ধ বের হচ্ছিলো। পরে তা রোদে শুকাতে দেয়া হয়। বৃষ্টির পানির তোড়ে কিছু টাকা ভিজে ও যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শহীদুল ইসলাম শহীদ অভিনেতা অনন্ত জলিলের প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন। এ বছর ৭ এপ্রিল অভিনেতা অনন্ত জলিলের ৫৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় শহিদুল। এ ঘটনায় অনন্ত জলিল বাদী হয়ে সাভার থানায় মামলা করেন। মামলার পর ওই থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভোলায় এসে শহীদকে না পেয়ে তার বাবা ও মাকে আটক করে। পরে অবশ্য তারা জামিনে মুক্তি পান।

এদিকে গত ৩ মাসে টাকা উদ্ধার না হওয়ায় মামলাটি ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এ স্থানান্তরিত করা হয়। ডিবির ৮ জন সদস্য গত মঙ্গলবার ভোলায় এসে অভিযান শুরু করে এবং এদের সহায়তা দেন দৌলতখান থানা পুলিশ।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর