২১, নভেম্বর, ২০১৮, বুধবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৮

ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

ঢাকা: কাল বাদে পরশু পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ এলেই নগরের বেশিরভাগ মানুষই ছুটে যান গ্রামে। গত কয়েকদিনে সড়ক, নৌ, রেলপথে বাড়ি গেছেন হাজারো মানুষ। আজও ভোর থেকে অনেকে ছেড়ছেন রাজধানী। আর এতেই বদলাতে শুরু করেছে ঢাকার চিত্র। মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে থাকা নগরীতে কমতে শুরু করেছে যানজট।

রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল কমেছে। বড় সড়ক ছাড়া অন্যত্র কোলাহল নেই বললেই চলে। কমে এসেছে নগরীর গণপরিবহন, রিকশা, সিএনজি অটোরিকশাও। যানজট কম থাকায় নগরবাসীর ব্যক্তিগত যান চলাচল করছে নির্বিঘ্নে।

সরেজমিনে গতকাল রোববার দুপুরের পর থেকে রাজধানীজুড়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের চিত্র ছিল গতানুগতিক। তবে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কম বলে যানজট ছিল না। সন্ধ্যার পরও মতিঝিলের যেসব রাস্তা থাকে বাস-রিকশা আর হকারদের দখলে, দুপুরের দিকে সেখানকার চিত্র ছিল কিছুটা ফাঁকা। যানবাহনের সঙ্গে কমে গেছে হকারের সংখ্যাও।

সোমবার সকালে মতিঝিলের কালভার্ট রোডে কানিকটা পথ হাটার পর দেখা মিলল এক রিকশার। চলতে চলতে চালক কবির মিয়া বলেন, গেরামের বাড়ি মাইমনসিং (ময়মনসিংহ)। আজই বাড়ি যাইতে চাইছিলাম। কিন্তু যাইনি। বউ-পোলাপাইন বৃহস্পতিবারই ট্রেনে বাড়ি গেছে। হেল্লাইগা টেনশন নাই। রাতে যাব। এখন যা ভাড়া মারছি তাই লাভ।

এদিকে ঘরমুখো মানুষদের বাড়ি ফেরার হিড়িক পড়ে গেছে গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই। চাকরিজীবীরা আগেই পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন।

গত কয়েক বছর থেকে রাস্তায় গাড়ির চাপ কমাতে রাজধানীর গার্মেন্টগুলোতে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেয়া হয়। কোনো কোনো গার্মেন্ট দু’তিন দিন আগে থেকেই ছুটি দিয়ে দেয়। গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর অনুরোধে এই কাজ করা হয়।

এদিকে সোমবার রেল, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। রাজধানীর কমলাপুর এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশন ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই উঠছেন ট্রেনের ছাদে। এছাড়া প্রতিটি ট্রেনই ৩-৪ ঘণ্টা দেরিতে স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, মানুষের বাড়তি চাপের কারণে ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে।