২০, নভেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

সমস্যার মূলে আমাদের ক্রিকেট সংস্কৃতি?

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৮

সমস্যার মূলে আমাদের ক্রিকেট সংস্কৃতি?

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর সেটা সম্ভব হয়েছে মাশরাফি-তামিদের নিয়ে গড়া একটি সোনালি প্রজন্মের হাত ধরে। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটের সোনালি প্রজন্মের আড়ালে উঁকি দিচ্ছে শঙ্কায় ভরা ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের একটি বড় অংশ অধারাবাহিকতা, মাঠের বাইরে বিশৃঙ্খলা ইস্যুতে বারবার নেতিবাচক শিরোনামের জন্ম দিচ্ছে।

এমনকি বোর্ড দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার পরও বিপথেই চলছে এই তরুণ ক্রিকেটাররা। অনেকে একাধিকবার সুযোগ পেয়েও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের যৌথ নৈপুণ্য ব্যতীত জয়ের দেখা পায় না বাংলাদেশ। এক কথায় তরুণদের এমন পারফরম্যান্সে খুব একটা আশার আলো দেখছেন না ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। তাই মাশরাফিরা চলে গেলে কি হবে টাইগার ক্রিকেটের।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই প্রজন্মের ক্রিকেটাররা বড় হতে পারছে না? ভুল গুলো কি শুধুই ক্রিকেটারদের হচ্ছে? নাকি এর জন্য আমাদের ক্রিকেটের দূষিত সংস্কৃতিও দায়ী?

তরুণ ক্রিকেটাররা তাঁদের ক্রিকেট মস্তিষ্ক শাণিত করার জন্য যথেষ্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পান না। স্কিল ট্রেনিংয়েই বেশি হয়েছে তাদের। বেশি বেশি ম্যাচ খেলে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার পূর্ণ করে না তারা। সৌম্য-সাব্বির-মোস্তাফিজরা ঘরোয়া ক্রিকেটের তেমন খেলেনই না। তাই ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাব বড় পর্যায়ে এসে ধরা পড়ছে। যা আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।

তাই এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাঠামোতে মরচে ধরা শুরু করবে। অথচ মাশরাফি-সাকিবদের দেখানো পথে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়া দরকার ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের।

পাশের দেশ ভারতের দিকে চোখ দিলেই সঠিক ক্রিকেট সংস্কৃতির উদাহরণ পাওয়া যায়। সুনিল গাভাস্কার ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর দুই বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন শচীন টেন্ডুলকার। ২৪ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শাসন করার পর শচীনের অবসরের আগেই তৈরি বিরাট কোহলি। এক কথায় ততদিনে ভিরাট কোহলি ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টার বয় হওয়ার জন্য প্রায় প্রস্তুত। শচীনের অবসরে কোহলিই হলেন ভারতীয় ক্রিকেটের মহাতারকা। মাঠের পারফর্মেন্স দিয়েই কোহলি এখন আধুনিক ক্রিকেটের মহান ক্রিকেটারদের কাতারে জায়গা করে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আকরাম খান, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মিনহাজুর আবেদিন নান্নুদের পর হাবিবুল বাশারদের দেখানো পথেই এগিয়েছে মাশরাফি-আশরাফুলরা। তারপরের প্রজন্ম বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নিয়ে গেছে আরেক ধাপ উঁচুতে। কয়েক বছর পরেই সাকিব-তামিম-মুশফিকদের উত্থান বাংলাদেশ ক্রিকেটে। ৯০`র দশকের শ্রীলঙ্কার মত মাশরাফি-সাকিবদের এখনকার দলকে বাংলাদেশের সোনালি প্রজন্ম বলা চলে।

তাই দেশের এই দূষিত ক্রিকেট সংস্কৃতির আগ্রাসনে সোনালি প্রজন্মের পরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কি হবে, সেটা সময়ই বলে দিবে।