২০, নভেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বিচার চান না আতঙ্কিত স্বজনরা

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৮

বিচার চান না আতঙ্কিত স্বজনরা

খাগড়াছড়ি স্বনির্ভর বাজারে গত শনিবার সকালে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ৭ জনের প্রাণহানির ঘটনায় কেউ মামলা করার সাহস পাচ্ছেন না। এমনকি তিন নেতার লাশ নিতেও ভয় পাচ্ছেন তাদের স্বজনরা। তারা নীরবে চোখের জল ফেলছেন। আতঙ্কগ্রস্ত স্বজনদের কেউ কেউ এমনও বলছেন যে, তারা এসব হত্যার বিচার চান না। খুন-খারাবির ভয়ে অঞ্চলজুড়ে এখন বিরাজ করছে গাÑছমছম নীরবতা।
হতাহতের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। ৭ খুনের ঘটনায় গতকাল রাতে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, কোনো মামলা হয়নি। খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি সাহাদত হোসেন টিটু এ তথ্য জানিয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত নিহতদের স্বজন বা কোনো পক্ষ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

এদিকে হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে ইউনাইডেট পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত গ্রুপ) সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশন আজ খাগড়াছড়ি জেলায় অর্ধদিবস অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গতকাল বিকাল থেকে খাগড়াছড়িতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী।

শনিবারের গোলাগুলিতে নিহত ৭ জনের মধ্যে ৪ জনের লাশ শনিবার সন্ধ্যায় তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি সংগঠনগুলোর তিন নেতার লাশ বুঝে নিতে গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত থানায় যাননি তাদের কোনো স্বজন। এর পর বিকালে লাশগুলো তাদের বাসার ঠিকানায় নিয়ে যায় পুলিশ এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ওই তিন নেতা হলেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা, একই সংগঠনের জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক এলটন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা সহ-সভাপতি পলাশ চাকমা।

নিহত স্বাস্থ্য সহকারী জীতায়ন চাকমার স্ত্রী প্রভাতি চাকমা জানান, অস্ত্রধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে জীতায়ন চাকমা মারা যান। তিনি বলেন, স্বনির্ভর বাজার এলাকায় এত নিরাপত্তা থাকার পরও প্রকাশ্যে খুন করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাচ্ছে। উপরন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে, আমি মামলা করলে আমার পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলা হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কে নিরাপত্তা দেবে আমাদের?
নিহত বরুন চাকমার মা ফুলকুমারী চাকমাও অবৈধ অস্ত্রধারীদের ভয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নন। তিনি বলেন, আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই না। তবে রাষ্ট্রের কাছে গ্যারান্টি চাই, আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। মানুষ মারার অপরাজনীতি বন্ধ হোক।

স্বনির্ভর বাজার ও এর আশপাশের এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কগ্রস্ত। গতকাল আতঙ্কের কারণেই স্বনির্ভর বাজারের সব দোকানপাট ছিল বন্ধ। তবে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কে রবিবার সকাল থেকে ফের যান চলাচল শুরু হয়েছে।

হতাহতের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ আলীকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার আলী আহাম্মদ খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে পুলিশের পাশাপাশি সেনা ও বিজিবির টহলও রয়েছে বলে জানান তিনি।

চলছে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান : অবৈধ অস্ত্র উদ্বার, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় রবিবার বিকাল থেকে খাগড়াছড়িতে যৌথবাহিনী চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার জানান, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আমর্ড পুলিশ এ অভিযানে থাকবে। যত দিন সন্ত্রাস নির্মূল হবে না, ততদিন এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।