২১, নভেম্বর, ২০১৮, বুধবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

তিন কক্ষের একটি ছোট্ট ঘরে থাকবেন ইমরান খান

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৮

তিন কক্ষের একটি ছোট্ট ঘরে থাকবেন ইমরান খান

ঋণের বোঝা হালকা করতে পাকিস্তান কৃচ্ছ্রতা কর্মসূচি শুরু করবে শুরু বলে জানিয়ে দেশটির সদ্য শপথ নেয়া প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, নিজের অফিসের বুলেট-রোধী গাড়ির বহর বিক্রির মাধ্যমে তিনি এ অভিযান শুরু করবেন। প্রধানমন্ত্রীর বিলাসবহুল বাড়িতে নয়, তিন কক্ষের একটি ছোট্ট ঘরে থাকবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এছাড়া ধনী ব্যক্তিদের কর দিতেও আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক এই ক্রিকেটার।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া তার প্রথম ভাষণে তিনি নয়া পাকিস্তানের রূপকল্পের যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের বিধান প্রণয়নের মাধ্যমে দেশকে পুনর্গঠনের কথা বলেন।

ইমরান খান বলেন, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বসবাস ও অন্য দেশ থেকে সাহায্য নেয়ার বদ অভ্যাস তৈরি করেছি আমরা। এভাবে কোনো দেশ সমৃদ্ধ হতে পারে না। একটি দেশকে তার নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

ইমরান খান যখন ভাষণ দেন তখন তার পেছনের দেয়ালে দেশটির জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ঝুলানো ছিল।

গত মাসের নির্বাচনে তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি জয়ী হওয়ার পর শনিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সাবেক ক্রিকেট কিংবন্তি ইমরান খান।

পাকিস্তানের অভিজাত শাসক শ্রেনির বিলাসী জীবন যাপনকে অপব্যয়ী ও উপনিবেশিক আমলের মানসিকতা বলে আখ্যা দিয়ে তিন কক্ষের একটি ছোট্ট বাড়িতে বসবাসের ঘোষণা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আবাসিক ভবনে থাকবেন না বলে জানান ইমরান খান।

পিটিআই প্রধান একজন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাখা ৫২৪ চাকর-বাকরের বদলে মাত্র দুজন রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। রাজস্ব ঘাটতি কমাতে নিজের বুলেট-প্রুফ গাড়ির বহর বিক্রি করে দেয়ার কথাও ভাবছেন তিনি।

দেশটিতে জঙ্গিরা যখন সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে, তখন তার এমন উদ্যোগকে অত্যন্ত সাহসী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

ইমরান খান বলেন, আমার জনগণকে বলতে চাই, আমি খুবই সাধারণ জীবন যাপন করব। আমি আপনাদের অর্থ সঞ্চয় করব।

বিদেশে বসবাস করা পাকিস্তানিদের প্রতি নিজ দেশে বিনিয়োগেরও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর ফাঁকি দেয়া আমাদের চিরস্থায়ী সমস্যা। এক শতাংশের কম লোক তাদের আয়কর বিবরণী দাখিল করেন।

ধনীদের উদ্দেশ্যে ইমরান খান বলেন, কর দেয়া আপনাদের দায়িত্ব। এটাকে জিহাদ হিসেবে ভাবুন। দেশের ভালর জন্যই আপনাদের কর দিতে হবে।