২০, নভেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

দুঃসংবাদ শোনালেন হ্যাজার্ড

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৮

দুঃসংবাদ শোনালেন হ্যাজার্ড

রিয়াল মাদ্রিদে যেতে কি ব্যাকুলই না ছিলেন এডেন হ্যাজার্ড! স্বপ্নের রিয়াল তাকে ডাকছে। সেই ডাকে সাড়া দিতে হ্যাজার্ড এতোটাই উদগ্রীব ছিলেন যে, চেলসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে রাজি হচ্ছিলেন না। বারবার ফিরিয়ে দিয়েছেন বেতন-বৃদ্ধির প্রস্তাবও। তার এমন আগ্রহ দেখে রিয়াল সমর্থকেরাও আশায় বুক বেঁধেছিল। ভেবেছিল যাক, নেইমার-এমবাপে হাত ফসকে গেলেও হ্যাজার্ডকে হয়তো দেখা যাবে বার্নাব্যুতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিয়ালের জন্য বরাদ্দ হলেঅ দুঃসংবাদই। আর দুঃসংবাদটাও দিলেন এতোদিন আশার গান শুনিয়ে আসা হ্যাজার্ড নিজেই। বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড নিশ্চিত করলেন, এ বছরে কোথাও যাচ্ছেন না।

থাকছেন চেলসিতেই। জানালেন চেলসিতে তিনি সুখেই আছেন। যার অর্থ, রিয়ালের হ্যাজার্ড আশাও শেষ। ইউরোপের দলবদল মৌসুম প্রায় শেষের পথে। এই মুহূর্তে হ্যাজার্ডের এই দুঃসংবাদের মাধ্যমে যেন শেষ হয়ে গেল রিয়ালের তারকা খেলোয়াড় কেনারও আশাও।

অনেক দিন ধরেই রিয়ালের রাডারে হ্যাজার্ড। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো চলে যাওয়ায় এবং নেইমার-এমবাপে না করে দেওয়ায় এই মৌসুমে রিয়ালের হ্যাজার্ড-চাওয়া আরও জোরালো হয়েছিল। এমনকি দলবদলের নতুন রেকর্ড গড়েও বেলজিয়ান তারকাকে কিনতে প্রস্তুত ছিল রিয়াল। হ্যাজার্ড নিজেও রিয়ালে যোগ দিতে মরিয়া ছিলেন। এই তো বিশ্বকাপের পরও তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি কোথায় যেতে চাই, সেটা সবাই জানে।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত চেলসির ভালোবাসার কাছে হেরেই গেলেন তিনি।

রিয়ালে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘বিশ্বকাপের পর কি বলেছি, তা সবাই জানেন। কিন্তু যদি বর্তমানের কথা বলি, আমি এখন এখানে সুখেই আছি। আমার চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর আমি। কাজেই দেখা যাক, সামনে কি ঘটে। তবে আপাতত আমি যাচ্ছি না (এ বছর)।’

২৭ বছর বয়সী হ্যাজার্ডের হঠাৎ এভাবে মত পাল্টে ফেলার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ চেলসির ভালোবাসা। চেলসির কর্তারা তাকে কিছুতেই ছাড়তে রাজি নয়। চেলসির সমর্থকেরাও বেলজিয়ান তারকাকে ভালোবাসেন খুব। সেই ভালোবাসা উপেক্ষা করে হ্যাজার্ড চেলসির ক্ষতিটা করেন কি করে!

হ্যাঁ, হ্যাজার্ডের সামনে এখনো সুযোগ ছিল রিয়ালে যাওয়ার। কারণ, স্পেনের দলবদল দরজা এখনো খোলা। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ কাজে লাগালে চেলসির বড় একটা ক্ষতিই হতো। কারণ এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের দলবদল দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। চাইলে চেলসি খেলোয়াড় বিক্রি করতে পারবে। কিন্তু কিনতে পারবে না। মানে হ্যাজার্ড গেলে তার বিকল্প কাউকে চেলসি কিনতে পারবে না।

হ্যাজার্ড তাই চেলসিকে বিপদে ফেলতে চাননি, ‘ইংল্যান্ডে দলবদলের বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা হয়তো বিক্রি করতে পারব। কিন্তু কাউকে কিনতে তো পারব না। তাই আমাকে ছেড়ে দিয়ে নতুন কাউকে না আনাটা ক্লাবের জন্য (চেলসির জন্য) অদ্ভূত সিদ্ধান্তই হবে। তাছাড়া আর্সেনালের ম্যাচটাতেই তো দেখলাম, চেলসির সমর্থকেরা আমাকে কতটা পছন্দ করে। এখানে আমি স্বচ্ছন্দেই আছি। আমি থাকছি।’

হ্যাজার্ডের এই পাল্টে ফেলা সিদ্ধান্তে চেলসি নিশ্চিতভাবেই খুব খুশি। কিন্তু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আরও গাঢ় হলো অনবরত বাজতে থাকা হতাশার সুর।