২০, নভেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

শেরপুর প্রেসক্লাবের নয়া কমিটি: শরিফ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক মেরাজ

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৮

শেরপুর প্রেসক্লাবের নয়া কমিটি:  শরিফ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক মেরাজ

নাঈম ইসলাম, সহ-সম্পাদক: শেরপুর প্রেসক্লাবের নয়া কমিটি গঠন করে অবশেষে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হলেন সাংবাদিকরা। রবিবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে শহরের আলীশান হোটেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাসহ সদস্যরা এবং বাইরে থাকা সাংবাদিকরা এক ও অভিন্ন অবস্থানে থাকার অঙ্গীকারে ঐক্যমতে পৌঁছান।

পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের মতামত নিয়ে দৈনিক সংবাদ ও একুশে টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি শরিফুর রহমানকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি এবং গোপন ভোটে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মেরাজ উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। একইসাথে জিএম আজফার বাবুলকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, আদিল মাহমুদ উজ্জল ও রেদওয়ানুল হক আবীরকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ওই কমিটি আগামী ২ নভেম্বর বিদায়ী কমিটির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবে এবং তখন থেকে তাদের কার্যকাল শুরু হবে। এর আগে সদস্য নবায়ন ও ভর্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে সাধারণ পরিষদের এক সভায় কার্যকরী পরিষদের অন্যান্য পদগুলো বিদায়ী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শে পূরণ করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়।

সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য আতিউর রহমান আতিক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় হুইপ আতিক সাংবাদিকদের বিবদমান দু’পক্ষ বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় তাদের প্রতি অভিনন্দন জানান। সেইসাথে তিনি পেশাগত ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে সাহসিকতার সাথে কাজ করতেও তাদের প্রতি আহবান জানান। এছাড়া তিনি নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণকালে তার তরফ থেকে নগদ ২ লাখ টাকার অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মতবিনিময় সভা আহবানকারী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উৎপলের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের বিদায়ী সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা, সিনিয়র সহ-সভাপতি জিএম আজফার বাবুল, সহ-সভাপতি এসএম শহীদুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক সুশীল মালাকার, এমএ হাকাম হীরা, সঞ্জীব চন্দ বিল্টু, দেবাশীষ সাহা রায়, তালাত মাহমুদ, মেরাজ উদ্দিন, হাকিম বাবুল, দেবাশীষ ভট্টাচার্য, আসাদুজ্জামান মোরাদ, আলমগীর হোসেন, রওশন কবীর আলগীর, আলমগীর কিবরিয়া কামরুল, জিএইচ হান্নান, রেদওয়ানুল হক আবীর, মনিরুল ইসলাম মনির, মনিরুজ্জামান রিপন, নুর-ই আলম চঞ্চল, সোহেল রানা, ইমরান হাসান রাব্বী, ইউসূফ আলী রবিন প্রমুখ।

ওই সময় প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাগণসহ জেলা পর্যায়ে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৬০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে রফিকুল ইসলাম আধারকে সভাপতি ও সাবিহা জামান শাপলাকে সাধারণ সম্পাদক করে শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদ ঘোষণার পর প্রেসক্লাবের বাইরে অবস্থান নিয়ে মনিরুল ইসলাম লিটনকে সভাপতি ও আদিল মাহমুদ উজ্জলকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি পাল্টা কমিটি গঠন করে সাংবাদিকদের একটি অংশ।
এরপর থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডসহ সাংগঠনিক কর্মকান্ডে আধার-শাপলার নেতৃত্বাধীন কমিটি সক্রিয় থাকলেও বাইরে থাকা অংশের সাথে তাদের মতবিরোধ চলেই আসছিল। ওই অবস্থায় সম্প্রতি হুইপ আতিউর রহমান আতিকের ডাকা এক চা চক্রে ঐক্যের প্রশ্নে বিবদমান দু’পক্ষের সাংবাদিকরা সায় দিলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পালকে দায়িত্ব দেওয়া হয় সাংবাদিকদের একটি মতবিনিময় সভা আহবান করতে।

রবিবার বিকেলে হোটেল আলীশানের হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে শরিফুর রহমানকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু সাধারণ সম্পাদক পদে মেরাজ উদ্দিন, আদিল মাহমুদ উজ্জল, আবুল হাশিম, আলমগীর হোসেন, মনিরুজ্জামান রিপন ও আনোয়ার সরকার জালালসহ ৬ জন প্রার্থী হলে তাৎক্ষণিক গোপন ভোটে সর্বোচ্চ ৩৪ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মেরাজ উদ্দিন।

১৪ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হন আদিল মাহমুদ উজ্জল।

অন্যদিকে মতবিনিময় সভায় প্রেসক্লাবের একাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া ৪৫ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে ফেরত দেন পাল্টা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আদিল মাহমুদ উজ্জল এবং সাবেক কোষাধ্যক্ষ আবুল হাশিম তার কাছে থাকা ২৬ হাজার টাকা আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফেরত প্রদানের অঙ্গীকার করেন।