শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: শিক্ষার গুণগত মান ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলছে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পুস্পকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুধু প্রচলিত নিয়ম এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের আটকে রাখেননি।
বরং সৃজনশীলতা দিয়ে পরিচিত করে তুলেছেন বিদ্যালয়টিকে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক তনিমা পারভীন’র নানা উদ্ভোবনী কাজের ছক এবং তা বাস্তবায়নে সহকর্মীদের দলবদ্ধ পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুস্পকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
বর্তমান ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২৮৬। শিক্ষকের পদ আছে ৮টি। বিদ্যালয়টিতে এলাকার বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে। বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা বার্তা বাজারকে বলেন, ‘স্কুলটি উপজেলার মধ্যে ভালো। প্রধান শিক্ষক স্কুলের জন্য খুব খাটেন। এ স্কুলের সব স্যার খুব দায়িত্বশীল।
তাঁরা শুধু স্কুলেই পড়ান না। বাড়িঘরে গিয়েও খোঁজ নেন।’ তবে এই সাফল্যের পথটা অত মসৃণ নয়। এই বিদ্যালয়ে সমস্যার কমতি নেই। বিভিন্ন সময় খবরদারি স্কুলের টাকা আত্মসাৎ করতে না পেরে পুষ্পকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শ্রেণীর স্বার্থন্বেষী মহল নানান ষড়যন্র লিপ্ত হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে একটি কুচক্রী মহল নানান ভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে যারা ষড়যন্র করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসী। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন টাকা আত্মসাৎ করতে সব সময় মরিয়া হয়ে আছেন ঐ কুচক্রী মহল।
কিন্তু কুচক্রী মহল বিদ্যালয় থেকে কোন প্রকার আর্থিক সুবিধা না নিতে পেরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে চলেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, ২০১৩ সালে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তনিমা পারভীন যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া নিয়মিত মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যর্ক্রম। ২০১৭ সালে সমাপনী পরীক্ষায় ৮ জন এ প্লাসসহ ২জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে। ২০১৮ সাল সমাপনী পরীক্ষায় ১২ জন এ প্লাসসহ ২জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে। এছাড়া খেলাধুলা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও এ বিদ্যালয়ের সাফল্য রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তনিমা পারভীন বার্তা বাজারকে বলেন, ‘ক্লাশের পাঠদান পদ্ধতি পরিবর্তন, শিক্ষকদের পরিশ্রম, সাপ্তাহিক পরীক্ষা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা, অভিভাবক সমাবেশের কারণে স্কুলটি ভালো ফলাফল করছে।