শেষ হলো বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর।যা আপনাদের মনে থাকবে অনেক দিন।হয়ত এমন নাটকীয় ম্যাচ আর কেউ নাও দেখতে পারেন নিজের জীবদ্দশায়।এখন সদ্য শেষ হওয়া ম্যাচটি ঘিরে চলছে ময়না তদন্ত।
আদর্শ বিশ্বকাপ ফাইনাল। এ ধরনের ম্যাচ দেখার জন্যই টিভির সামনে দুপুর থেকে বসে থাকা।অথবা রেডিও সঙ্গে রাখা।আরো সহজ হলো এখন মোবাইল ফোন।যা হোক শত ব্যস্ততার মাঝেও যা আপনারা দেখার জন্য ব্যাকুল থাকেন।যার জন্য আপনারা এত কিছু করেছেন, এবার বলতে পারেন সেটা সার্থক হয়েছে।আর সেটা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করার ফল দেখিয়ে গেল বেন স্টোকস।
আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ ওভারে চারটি ছয় হজম কর বেন স্টোকসের কথা।এরপর দেশের খলনায়ক বনে গিয়েছিলেন যে অলরাউন্ডার, সে-ই দেশকে প্রথম বিশ্বকাপ তুলে দিল। আর যেই শিরোপার জন্য ৪৫ বছর অপেক্ষায় ছিলেন ক্রিকেটের জম্মদাতারা।
তবে ইংল্যান্ড জিতলেও সবার চোখে হারেনি নিউজিল্যান্ড। শুরু থেকে যাদের মধ্যে কোনও সম্ভাবনাই দেখেনি ক্রিকেটবিশ্ব, তারাই আবারও প্রমাণ করে দিল, ক্রিকেট মহান অনিশ্চয়তার খেলা।
বেন স্টোকস যখন নামল, তখন ইংল্যান্ড ৭১-৩। অধিনায়ক এইডেন মরগান আউট হওয়ার সময় স্কোরবোর্ড বলছে ৮৬-৪। তখনই হয়তো অনেকে ভেবেছিল এই অবস্থা থেকে ইংল্যান্ড ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। কারণ, বিশ্বকাপ জুড়ে রান পায়নি বাটলার। তার উপরে ফাইনালের চাপ। কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণিত করে ১১০ রানের জুটি গড়ে বাটলার ও স্টোকস। ৬০ বলে ৫৯ রান করে কাটা পড়লেন বাটলার। অপরাজিত ৮৪ রানে নায়ক স্টোকস।
এ দিন ভাগ্যও ইংল্যান্ডের সঙ্গেই ছিল। ৪৮.৪ ওভারেই ম্যাচটি শেষ হয়ে যেতে পারত। বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে ক্যাচও নিয়েছিল বোল্ট। কিন্তু শরীরের ভার সামলাতে না পারায় তা ছয় হয়ে যায়। এমনকি শেষ ওভারেও স্টোকস দ্বিতীয় রান সম্পূর্ণ করার সময় তার হাতে বল লেগে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়। ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ রান কুড়িয়ে নেয় ইংল্যান্ড। যা ক্রিকেটের ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল।
তবে এই বিশ্বকাপ বেন স্টোকসের। নিউজিল্যান্ড বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারই সে দেশের প্রথম বিশ্বকাপ জেতার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াল। ইংল্যান্ডের স্বপ্নের নায়ক হয়ে গেল এক সময়ের খলনায়ক।
সুপার ওভারে বেন স্টোকস ও জস বাটলার যে রকম ব্যাট করেছে, তেমনই একা নিউজিল্যান্ডের জিমি নিশাম জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল।
প্রথমে ইংল্যান্ড ১৫ রান করে।এরপর ১৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড।আর সেখানেও খেলা থামে ইংরেজদের সমান ১৫ রানে। ইংল্যান্ড জিতল বাউন্ডারির নিরিখে।
কারণ, ম্যাচে কিউইদের থেকে অনেক বেশি বাউন্ডারি রয়েছে ইংল্যান্ডের।
প্রসঙ্গত, তবে সেই খলনায়কের তকমটা কিছুতেই পিছু ছাড়ঝে না এই অলরাউন্ডারের।২০১৬ সালে নিজে বল হাতে হারিয়ে হয়েছিলেন খলনায়ক।এবার ব্যাট হাতে ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে হয়েছেন নায়ক।তবে হারিয়েছেন যে নিজ দেশকে!সেখানেই বিপত্তি।তাই এবারও তিনি খলনায়ক!নাগরিকত্ব পাওয়া ইংল্যান্ডের কাছে নয়, জম্মভূমি নিউজিল্যান্ডের কাছে তিনি এখন পরিচিত খলনায়ক হিসেবে!
উল্লেখ্য, ম্যাচ শুরুর আগে স্টোকের বাবা ছেয়েছিলেন ছেলে হারুক!তবে মা কিছুটা কুটনৈতিক কথা বলেছিলেন।তিনি জানান যে জিুতক আমরাই তো জিতব।সত্যিকারে স্টোকের ‘মা’ জিতে গেলেন।
বার্তাবাজার/এএস