মুহাম্মদ উল্যাহ সজীব, নোয়াখালী (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী) প্রতিনিধি: নোয়াখালী সুবর্ণচরে এক বিধবা নারীর বসতঘর ও বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার (১৪ জুলাই) সুবর্ণচর উপজেলার ৫ নং চরজুবিলী ইউনিয়নের চর মহিউদ্দিন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী, মৃত নেসার আহম্মদের স্ত্রী ৪ সন্তানের জননী আয়েশা খাতুন(৫৫) অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীর শেষ সম্বল ভিটে বাড়ী নিয়ে নিয়ে বসবাস করে আসছে, বাড়িটি চরজুবিলী এবং ২ নং চরবাটা ইউনিয়নের বর্ডারের মধ্যে পড়ায় ২ নং চরবাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনের লালিত সন্ত্রাসী চরমহিউদ্দিন গ্রামের মোবাশ্বের আলীর পুত্র আনসার, জয়নালের পুত্র ফজল হক দীর্ঘদিন কয়েক বছর ধরে আমার বাড়ি ঘর দখল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। শনিবার রাতে তারা আমার চাষের জমিতে বাঁধ দিয়ে রাখে এতে আমি এলাকার মান্যগণ্য লোকজনকে জানাই। পরে গতকাল ১৪ জুলাই রবিবার সকাল ১০ টায় রাতের ঘটনার জন্য তারা আমাকে বিচার করে দিবে মর্মে সুকৌশলে আমাকে তাদের ক্লাবে ডেকে নিয়ে যায়।
আমাকে সেখানে বসিয়ে রেখে তারা ভাটাটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে আমার বাড়ীর পুকুরপাড় এবং চলাচলের রাস্তা কেটে দিতে চাইলে বাড়ীতে থাকা আমার ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (২৯) বাঁধা দেয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে একই গ্রামের রবিউল হোসেনের পুত্র আব্দুর রব (৩২) মৃত মহিউদ্দিনের পুত্র নাসির(৩৫) ছায়েদ হকের পুত্র দেলোয়ার হোসেন সহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আমার ছেলেকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। শোর-চিৎকার শুনে আমার বৃদ্ধ মা ফিরোজা খাতুন (৭০) তাকে বাঁচাতে এলে আমার মাকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে এবং আমার মেয়ে খতিজা খাতুন(২০) কে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে দেখি তারা সবাই আহত হয়ে পড়ে আছে। আমি প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে ২ নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনের ভয় দেখায় এবং তারা তার লোক বলে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
তিনি আরো বলেন, এ নিয়ে একাধিকবার তারা আমার বড় বাড়ী দখল করার জন্য আমার উপর হামলা চালায়। আমি চরজুবিলী ইউনিয়নের বাসিন্ধা হয়েও যেহেতু হামলা কারিরা ২ নং চরবাটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনের লোক তাই আমি মোজাম্মেল চেয়ারম্যানের কাছে বিচার নিয়ে গেলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্ধ করে তাড়িয়ে দেয়। এসব কাজ চেয়ারম্যানের নির্দেশে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে আহতরা সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ বিষয়ে একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন’র মুঠোফোনে ফোন করলে ও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহেদ উদ্দিন চৌধুরী বার্তাবাজার.কম কে বলেন, অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।