পদ্মা সেতুর মাথা কাঁটার গুজব, মার খাচ্ছে মানসিক প্রতিবন্ধীরা

মো: মিজানুর রহমান, সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: সারা দেশের নেয় মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ও চলছে পদ্মা সেতুর মাথা কাঁটার গুজব। এই গুজবের ফলে বিভিন্ন স্থানে মাথা কাঁটা সন্দেহে মারা হচ্ছে মানসিক প্রতিবন্ধী থেকে শুরু করে সন্তানের সাথে থাকা পিতাকেও। সিরাজদিখানের বিভিন্ন জায়গায় কয়েকদিন ধরে ছেলে ধরা আতঙ্কে বেশ কয়েকজনকে মারার কথা শুনা যায়।

শিশু কন্যা অপহরণ সন্দেহে এক মহিলাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের বড়ইহাজী গ্রামে। আহত মহিলা হালিমা বেগম (২৮) পুলিশ হেফাজতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। হালিমা বেগম মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কালীখোলা গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও একই থানার নয়াগাঁও গ্রামের মৃত শাহ মোল্লার মেয়ে। তার বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় বাদী হয়ে সুয়াইবা (০১) অপহরণ অভিযোগ করেছেন ঝুমা আক্তার (২৫)।

সুয়াইবার মা ঝুমা আক্তার জানান, তাদের বাড়ি উপজেলার চালতি পাড়া গ্রামে তার স্বামীর নাম দ্বীন ইসলাম। তারা বর্তমানে পাশের গ্রাম বড়ইহাজী মিল্লাত মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। শনিবার বিকালে ২ জন তার বাড়ি এসে পানি খেতে চায়। সে ঘর থেকে পানি এনে দেয় এবং খালি গ্লাস ঘরে রেখে এসে দেখেন উঠানে খেলারত সুয়াইবা ও মহিলারা নেই। বাইরে বেড়িয়ে কাউকে না পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোক জন আসে ১০ মিনিটের মধ্যে সঞ্চয়কস্তা মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখি এক মহিলা আমার মেয়েকে কোলে নিয়া নিম তলার দিকে চলে যাচ্ছে। আমি চিৎকার দিয়ে তার কোল থেকে আমার মেয়েকে নিয়ে আসি। উপস্থিত লোকজন মহিলাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। এরপর থানায় গিয়ে আমি লিখিত অভিযোগ করি।
আটক হালিমা বেগমের ছোট ভাই জান শরীফ জানান, তার বোন মানসিক রোগী। গত রমজান মাসে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। খোঁজাখুজি করে পাননি। আজ খবর পেয়ে হাসপাতালে এসেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.বদিউজ্জামান জানান পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে আছে। এখনো ভালভাবে কথা বলছে না। আরেকটু সুস্থ্য হলে বুঝা যাবে।

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, বাড়িতে ২ মহিলা প্রবেশ করে। রাস্তায় এসে বাচ্চাসহ একজনকে আটক করে। সে নাকি বলেছিল বাচ্চা পছন্দ হয়েছে তাই নিয়ে এসেছি। ধরা পরলেই মানসিক রোগী বলে, গেং আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কোনটা সঠিক এখন বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে বলা যাবে। অভিযোগ অনুযায়ী মামলা প্রক্রিয়াধীন।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর