মিরসরাইয়ে ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি

ইকবাল হোসেন জীবন, মিরসরাই প্রতিনিধি: মিরসরাইয়ে প্রবল বর্ষণও পাহাড়ী ঢলে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে এখনো তেমন ক্ষতি না হলেও বেড়েছে জনদূর্ভোগ। ক্ষতি হয়েছে আমন বীজতলার। ক্ষেতে খামারে কাজ করা সাধারণ মানুষগুলো অলস সময় পার করছে। অনেকে গবাদি পশু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি।

উপজেলার মিরসরাই সদর, ওয়াহেদপুর, হিঙ্গুলী, করেরহাট, খৈয়াছরা, ইছাখালী, বড়তাকিয়া, ওসমানপুর, জোরারগঞ্জ, বারইয়ারহাট পৌরসভা ও মিরসরাই পৌসভার গোভনীয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণের ফলে ফসলি জমি ডুবে গেছে।

মিরসরাই সদর ইউনিয়নের মোশারফ হোসেন জানান, ভারি বষর্ণে ও পাহাড়ি ঢলে মহামায়া ছড়ায় পানি বেড়ে গেছে। ফলে ছড়ার পাশে থাকা বেশ কিছু পানের বরজ প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ফসলি জমি ডুবে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারইয়ারহাট পৌরসভার এক ব্যবসায়ী জানান, প্রবল বর্ষণে বারইয়ারহাট পৌরসভার বিভিন্ন ড্রেনে পানি ঢুকে ময়লা আর্বজনা সড়কের উপরে উঠে গেছে। পৌর কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান, করেরহাট ইউনিয়নে পশ্চিম জোয়ার, ঘেরামারা, সরকারতালুক, ফরেষ্ট অফিস এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ডুবে গেছে ফসলি জমি। এছাড়া প্রবল বষর্ণে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ডুবে গেছে।

ওই ইউনিয়নের ঘেরামারা গ্রামের বাসিন্দা মফিজ মিয়া জানান, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ঘেরামারা গ্রামের কিছু ফসলি জমিতে পানি জমে গেছে। আবাসন প্রকল্পে লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারছে না।
জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের খিলমুরারী গ্রামে বাসিন্দা নূর হোসেন জানান, পানি নিষ্কাশনের জায়গা ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে সোনাপাহাড় ও খিলমুরারী এলাকার মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলে পানি জমে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারে না।

উপজেলার সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কাজী নুরুল আলম জানান, ভারি বর্ষণের ফলে আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক ফসলি জমি ডুবে গেছে। তবে শাক-সবজির ক্ষতি খবর এখনো পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী জানান, ভারি বৃষ্টিতে এখনো কোন মৎস্য খামারে ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বৃষ্টি যদি এভাবে অব্যাহত থাকে তাহলে অনেক মৎস্য খামার ডুবে ব্যাপক ক্ষতি আশংকা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, ভারি বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি জমি ডুবে গেছে। তবে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানা যায়নি।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর