পাহাড়ি ঢলে ৪০ গ্রাম প্লাবিত, দশ হাজার পরিবার পানিবন্ধি

তারিকুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি: এক সপ্তাহের প্রবল বর্ষনে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ৫ টি ইউনিয়নের ৪০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অতি বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবার হয়েছে পানিবন্দি। অপরদিকে নকলা উপজেলার মৃগী নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে নদী, রাস্তাঘাট ও বসত বাড়ির। টানা এই বৃষ্টি অব্যহত থাকলে পাহাড়ি এই জনপদে বসবাসকারী লোকজনের পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন জেলা প্রশাসন। এদিকে ১৪ জুলাই, রোববার শেরপুর সদর উপজেলার ধলা ও গাজিরখামার ২টি ইউনিয়ন আংশিক প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ইউনিয়ন দুটির ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। উপজেলা ও জেলা প্রসাশন বন্যা কবলিত এলাকায় মরিটরিং করছে।

১৪ জুলাই, রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলার পাগলার মুখ এলাকায় কাঠের তৈরির একটি সেতু পানির প্রবল শ্রোতে ভেঙ্গে ভাঁসিয়ে নিয়ে গেছে। প্লাবিত গ্রামগুলোর ঘর-বাড়ি, ব্রিজ-কালভার্ট, বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাকো সহ রাস্তাঘাট, আমন ধানের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মাটির তৈরি কাঁচা রাস্তা ধ্বসে পানির সাথে মিশে যা্ওয়ায় সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে অবহেলিত এই জনগোষ্ঠির রাস্তাঘাট।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যেই দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখেছি। বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পানিবন্দি মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আমরা নির্ধারনের চেষ্টা করছি। অবস্থার উন্নতি না হলে বন্যার্তদের সাহায্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পানিতে প্লাবিত রোপা আমনের বীজতলা ও পানির নিচে তলিয়ে থাকা সবজির আবাদের ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী ২ দিনের মধ্যে পানি যদি না কমে তাহলে ধানের চারার সংকট তৈরি হবে এবং বাজারে সবজির দাম বেড়ে যাবে। তার তথ্য মতে ১৫ হেক্টর জমিতে সবজি ও ২৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের বীজতলা রয়েছে যা পানির নিচে তলিয়ে আছে।

এব্যপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ বলেন, এই ব্যাপারে আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণের ব্যবস্থা সহ সকল প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।

অপরদিকে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নকলা উপজেলার মৃগী নদীতে পানির তীব্র স্রোত সৃষ্টি হওয়ার মৃগী নদী ও নদীর পারের মানুষের বাড়িঘর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। বাছুরআলগা দক্ষিণপাড়া গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর নদীর গর্ভে চলে গেছে। তাদের মধ্যে আফাজ উদ্দিন, মাহবুব হাজী ও জামাল চৌকিদারের বসত ভিটাসহ আবাদি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। চিকারবাড়ী ঘাট সংলগ্ন ২০ ফুট পাকা রাস্তার নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ওই সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নদী ভাঙনের কারণে ওই এলাকার আরও দু’টি বসতভিটার বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এব্যাপারে নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, নদী ভাঙনের হাত থেকে সতর্ক থাকার জন্য এলাকাবাসীকে সতর্ক ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষকে বাড়িঘর সরিয়ে নিতেও বলা হয়েছে। ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

জেলার বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এটিএম জিয়াউল ইসলাম জানান, চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদ সীমার সামান্য উপর দিয়ে এবং ব্রক্ষপুত্র, ভোগাই ও নাকুগাও পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার নিচে অবস্থান করছে। জেলার ৫ টি উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন নিম্নাঞ্চল প্লাবনের প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন মিলে নালিতাবাড়ী উপজেলার হাতিপাগাড় গরকান্দা এলাকায়, নকলা উপজলার চন্দ্রকোনা পয়েন্টে এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার দিঘিরপাড় ফাজিল মাদ্রাসার নিকট বালি বস্তা ও জিও ব্যাগ দিয়ে বাধ তৈরি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১লক্ষ ৫০ হাজার জিআর চাল এবং আড়াই লক্ষ জিআর ক্যাশ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর