উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় শঙ্কিত তিস্তাপাড়ের মানুষ।
শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫৩ দশমিক ০৪ সেন্টিমিটর। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সে.মি.) বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর আগে দুপুর ১২টায় ও ৩টায় বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিন ঘণ্টা পরে তা বেড়ে রাত ৯টায় ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় ওই ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ডালিয়া ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি চরম পর্যয়ে উঠেছে।
নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষকে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে।
এর সঙ্গে বুধবার (১০ জুলাই) দিনগত মধ্যরাত থেকে তিস্তার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। ভারী বৃষ্টিতে কিছু পরিবার মঙ্গলবার (০৯ জুলাই) দুপুর থেকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নৌকা বা ভেলা ছাড়া চরাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধেয়ে আসছে পাহাড়ি ঢল। এতে বড় সমস্যায় পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা।
শুক্রবার তিস্তার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যাও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি ভয়াবহ এ বন্যায় জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় ১৫/২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার তীরবর্তী এলাকার ব্রিজ কালভার্ট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। আদিতমারীর তিস্তার তীরবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি কুটিরপাড়, রজবপাড়া, অংশে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই এলাকার কুটিরপাড় বালুর বাঁধটিও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
যার বেশ কিছু অংশ ইতোমধ্যে তিস্তায় বিলীন হয়েছে। হাতীবান্ধার গড্ডিমারী তালেব মোড়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ চরম ঝুঁকিতে। যেকোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে বলে শ্বঙ্কিত স্থানীয়রা। বন্যায় ভেসে যাচ্ছে শত শত পুকুরের মাছ।
নষ্ট হয়েছে চাষিদের বাদাম, ভুট্টা ও সবজিসহ নানান ফসল। পানি প্রবাহ ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে তিস্তার তীরবর্তী মানুষ।
চরাঞ্চলের পানিবন্দি খেটে খাওয়া মানুষগুলো শিশুখাদ্য ও নিরাপদ পানির সমস্যায় পড়েছেন। টানা চার দিন পানিবন্দি থাকার পর শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেলে কিছু কিছু এলাকায় সরকারিভাবে ত্রাণ হিসেবে ১০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়।
চারদিকে অথৈ পানির কারণে জ্বালানি সংকটে রান্না করা যাচ্ছে না।এজন্য শুকনো খাবার পৌঁছানোর দাবি করেছে পানিবন্দি পরিবারগুলো। তবে সরকারিভাবে শুকনা খাবার মজুদ না থাকায় তা বিতরণ করা হয়নি।