রাজু ভাস্কর্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে, মোঃ আল মামুন খান: সকল ধরণের নারী নির্যাতন বন্ধ করতে পুরুষদের সম্পৃক্ত করে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘সেন্টার ফর মেন এন্ড ম্যাসকিউলিটিজ স্টাডিজ (সিএমএমএস)’। শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘ধর্ষকদের বিচার দাবী ও ধর্ষণের প্রতিবাদে’ সিএমএমএস এবং জাতিসংঘ যুব ও ছাত্র সংঘ বাংলাদেশ এর যৌথ আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
” ধর্ষণের প্রতিবাদে সাহসীদের সমাবেশ।
সাহসীরা নারী নির্যাতন করে না, প্রতিরোধ করে।
আমরা সাহসী। আপনি?” – ইত্যকার শ্লোগান সমৃদ্ধ ব্যানার দিয়ে আয়োজক সংগঠনের সদস্যগণ রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সকলে মিলিত হন। এসময় বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা অনেক প্ল্যাকার্ডে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূলক বক্তব্য দেখা যায়।
এই মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন- উওম্যান এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ এর এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোফেসর এবং সিএমএমএস এর চেয়ারপার্সন ড. সৈয়দ শেখ ইমতিয়াজ, সিএমএমএস এর ট্রেজারার জাকির হোসেন, সাংবাদিক, সংগঠক ও সমাজকর্মী আকাশ আহমেদ প্রমুখ সহ আয়োজক সংগঠন দুইটির সদস্যবৃন্দ।

মানববন্ধনে এসময় সিএমএমএস এর চেয়ারপার্সন ড. সৈয়দ শেখ ইমতিয়াজ বলেন, ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার মূলত ৩টি কারণ – প্রথমতঃ আমরা সন্তানদের ঠিকভাবে গাইড করতে পারছি না। দ্বিতীয়তঃ আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। সর্বশেষ মানুষের নৈতিক অবক্ষয়, পশুবৃত্তিকে দমন করতে পারছে না মানুষ।
প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিক, সংগঠক ও সমাজকর্মী আকাশ আহমেদ বলেন, আমরা দিন দিন হারাতে বসেছি আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ। আমাদের এই সুন্দর বাংলাদেশটা কখনোই ধর্ষকদের অভয়ারণ্য হতে পারে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। অপরাধী অন্যায় করছে আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং সঠিক বিচার এর অভাবে। দিনের পর দিন বেড়েই চলছে আমাদের শিশু ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন।
অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দেশে চলছে ধর্ষক আর খুনিদের রাজত্ব উল্লেখ করে আকাশ আহমেদ বলেন, অবিলম্বে অপরাধীদের শাস্তি চাই। প্রয়োজনে আইন সংস্কার করে দ্রুত ট্রাইব্যুনালে এদের বিচার এবং কঠিন শাস্তির বিধান হওয়া উচিত। এই স্বাধীন দেশে আমরা একটিও ধর্ষণ কিংবা কোন নারী নির্যাতন আর দেখতে চাই না।
প্রসঙ্গত, চলতি জুলাই মাসেই কেবল গত ৭ দিনে ৪১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যার মধ্যে ৬ শিশুকে গণধর্ষণ, ৫ প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ এবং ৩ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ১০ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় উঠে আসা সংবাদের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম। ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত শিশু অধিকার লংঘনের সংবাদ পর্যালোচনা করে তৈরী বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ) এর তথ্যমতে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে মোট ৪৯৬ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে গত ছয় মাসে ৬৩০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পরে শিশু হত্যা ও হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ১২টি। ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরাই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে বেশী।