ধর্ষণ মামলার আসামি মেয়রপুত্রের ৮ দিনের মাথায় জামিন!

মামলার আট দিনের মাথায় ধর্ষণ মামলার আসামি মেয়রপুত্রের জামিন পাওয়া নিয়ে শরীয়তপুরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জানা যায়, এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ৩০ জুন জেলার জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনুস বেপারির ছেলে মাসুদ বেপারির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর বিচারের দাবিতে বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের শরীয়তপুরের সদস্য সচিব অমলা দাস বলেন, ‘ভয়ঙ্কর একটি অপরাধের মামলার আসামি দ্রুত জামিনে মুক্ত হওয়া লজ্জা ও শঙ্কার বিষয়। এতে অপরাধী মাথা উঁচু করে চলার সুযোগ পায়, সমাজে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়।’

জাজিরা থানা, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনুস বেপারির ছেলে মাসুদ বেপারি পূর্ব পরিচিত এক কলেজছাত্রীকে গত ২৯ জুন বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় পরের দিন ৩০ জুন জাজিরা থানায় মাসুদকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ১ জুলাই তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। গত ৭ জুন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।

পাশাপাশি, আসামিপক্ষের আইনজীবী তার জামিন আবেদন করেন। জেলা আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন রিমান্ড ও জামিন আবেদন দুটোই নামঞ্জুর করেন।

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী জয়নব আক্তার ইতি ৮ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিস আপিল করেন। একই দিনে তিনি পৃথক আবেদনে আসামির জামিন প্রার্থনা করেন।

জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মরিয়ম মুন মঞ্জুরী জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। জামিনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন কর্মসূচিতে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মির্জা হযরত আলী, জেলা মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রওশন আরা, বেসরকারি সংগঠন শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির পরিচালক (প্রোগ্রাম) কল্পনা রহমান, পরিচালক (মাইক্রো ফিন্যান্স) কামরুল হাসান বাদল, বেসরকারি সংগঠন নড়িয়া উন্নয়ন সমিতির প্রধান সমন্বয়কারী জয়দেব কুন্ডু, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের জেলা সদস্য সচিব অমলা দাস, জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সীসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলী (পিপি) মির্জা হযরত আলী বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ আসামিকে জামিন দেওয়ার বিরোধিতা করেছে। কিন্তু আদালত তা আমলে নেননি। এভাবে গুরুতর অপরাধের মামলার আসামিকে দ্রুত সময়ে জামিন দেওয়া হলে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।’

বেসরকারি সংগঠন শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির পরিচালক (প্রোগ্রাম) কল্পনা রহমান বলেন, ‘বিষয়টি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ব্যাপারে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘ঘটনা জানাজানির পর থেকে মেয়ে আমার ঘর থেকে বের হয় না। সবসময় শুধু কাঁদে। লজ্জায় মানুষের সঙ্গে দেখা করে না। অপরাধী প্রভাবশালী। জামিনে মুক্তি পাওয়ায় আমরা ভয়ে আছি।’

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামি জামিন পেয়েছেন এমন তথ্য পেয়েছি। পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর