গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ী উজানের পানির ঢলে ফেনীতে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ফুলগাজী ও পরশুরাম অংশে ১২ টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর ফলে প্লাবিত হয়েছে প্রায় ১৭টি গ্রাম। পানিবন্দি হয়েছেন এখানকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।
বুধবার (১০ জুলাই) ক্ষতিগ্রস্থ বন্যা কবলিত গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার বাড়ি-ঘর, বীজতলা, সবজি ক্ষেত, মাছের ঘের, পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। বসত ঘর, রান্নাঘরে পানি ওঠার কারণে মানুষজনকে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পরশুরাম উপজেলা: মুহুরী নদীর পরশুরামের অংশে গত মঙ্গলবার রাতে ৫টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন স্থান গুলো হচ্ছে: চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শালধর গ্রামের মহসিন মেম্বার বাড়ি সংলগ্ন , দূর্গাপুর গ্রামের কালাম মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন স্থান, পৌর এলাকার বেড়া বাড়ীয়া শাহপাড়া গ্রাম সংলগ্ন স্থান, উত্তর ধনিকুন্ডা বদু মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন, নোয়াপুর আলত মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে।
বেড়িবাঁধের ভাংঙ্গনের কারণে উত্তর ধনিকুন্ডা, চিথলিয়া, শালধর, রাজষপুর, দুর্গাপুর, নোয়াপুর, রামপুর, বেড়াবাড়ীয়া,অলকাসহ ৯টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলা:গত মঙ্গলবার (৯জুলাই) রাত ৮টা থেকে ৯টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী নদীর বিভিন্ন স্থানে ৭টি ভাঙ্গনে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জয়পুরের ঘনিয়া মোড়ায় তিনটি স্থানে, উত্তর শ্রীপুর গ্রামের পূর্ব পাড়া, সাহাপাড়ার দুটি স্থানে, বক্সমাহমুদ কাপ্তান বাজার এলাকায় ২টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়।
এতে উপজেলার অন্তত ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রাম গুলি হচ্ছে উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, নীলক্ষি, কিসমত ঘনিয়া মোড়া,পশ্চিম ঘনিয়া মোড়া, জয়পুর, শাহাপাড়া, বৈরাগপুর গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ১০টার পর থেকে ফেনী-পরশুরাম সড়কের ফুলগাজী থেকে পরশুরাম পর্যন্ত হাটু পরিমাণে পানি থাকায় সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার সকালের দিকে পানি কমতে থাকে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়,মঙ্গলবার রাত থেকে মুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার ১.৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। বুধবার তা কমে গিয়েছে এবং পানির প্রবাহ লেভেলে রয়েছে।
