ভ্যান চালক সেই মায়ের ছেলে আজ পুলিশ পরিবারের সদস্য

একবুক আশা নিয়ে নড়াইল পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে অপেক্ষমান চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীরা নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর পরই আনন্দে কেঁদে ফেললেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে পিতৃহীন হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে সাকিবুর রহমানের কাছে এ চাকরি যেন পৃথিবীটাই হাতের মুঠোয় পাওয়ার মতো ঘটনা। এছাড়া সুপ্তিকণাসহ অনেকেরই অনুভূতি এমনটাই।

জেলা সদরের বরাশুলা গ্রামের প্রয়াত সেকেন্দার আলীর ছেলে কনস্টেবল পদে চাকরিপ্রাপ্ত সাকিবুর রহমানের মা সাবিনা ইয়াসমিন ভ্যান চালিয়ে বাড়ি বাড়ি এবং হাটবাজারে সবজি বিক্রি করে তিন সন্তানসহ চার সদস্যের সংসার চালান। সাকিবুর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

অন্য দুই ভাইবোনের মধ্যে একজন দ্বাদশ শ্রেণিতে, অপরজন সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। সরকারি জমিতে খুপরি ঘরে তাদের বসবাস। ভ্যানচালক বাবা সেকেন্দার আলী প্রায় তিন বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এরপর তাদের পরিবারের সদস্যরা খেয়ে না-খেয়ে বেঁচে আছেন। সেই থেকে অসহায় পরিবারটির হাল ধরেন মা সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি ভ্যানে করে ফেরি করে সবজি বিক্রি করে যে আয় করতেন সেই সামান্য টাকায় চলত তার সংসার। চরম অনটনের মধ্যেও লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন সাকিবুর।

পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়ার পর চোখে আনন্দ অশ্রু নিয়ে সাকিবুর জানান, ‘আমাদের খুব অভাব-অনটনের সংসার। এভাবে যে চাকরিটা পাবো, কল্পনাই করিনি।

কোনো প্রকার ঘুষ ও তদবির ছাড়াই কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়ার কথা জানালেন সাকিবুর।

তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার ‘ফি’ বাবদ ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের ১০০ টাকা ব্যতীত একটি টাকাও কোথাও খরচ করতে হয়নি।

গত ২৯ জুন থেকে নড়াইলে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গত ৪ জুলাই সমাপ্ত হওয়া বাছাইপর্বে টিকে থাকা ৬২৪ জনের মধ্যে অবশেষে ২০ জন চাকরি পেলেন।

বার্তাবাজার/এএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর