মোঃ আল মামুন খান, আশুলিয়া: রাজধানীর অদূরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বাইশমাইলে রাতের আঁধারে ভেকু (খননযন্ত্র) ব্যবহার করে কানাডিয়ান কলেজ নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গচুর করে গুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার (১০ জুলাই) ভোর রাত আনুমানিক ৩ ঘটিকার সময় এক দেড়শো’ সন্ত্রাসী কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল, মূল ফটক গুড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তচনচ করে দেয়।

সরেজমিন আশুলিয়ার বাইশমাইলে অবস্থিত কানাডিয়ান কলেজে গিয়ে কলেজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী এবং পরিচালনা পরিষদের দাতা সদস্য আতিয়ার রহমানের কাছে এই হামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা হামলার বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে জানান। এসময় মোহাম্মদ আলী বলেন, বুধবার ভোর রাতে দুইটি ভেকু নিয়ে এসে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার দেলোয়ারের নেতৃত্বে সাইফুল ইসলাম শিশির, আওলাদ হোসেন সহ প্রায় দেড়শো বহিরাগত সন্ত্রাসী আমার প্রায় ৪৭০ শতাংশ জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এরা আমার প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। আমার তিনজন নৈশ প্রহরীকে বেধে রেখে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ব্যপক ভাঙ্গচুর চালায়।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ছাত্রছাত্রীদের মূল সার্টিফিকেট, দুইটি কম্পিউটার, ল্যাপটপ, নগদ তিন লক্ষ বেয়াল্লিশ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এসময় অফিস কক্ষে টাঙ্গানো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙ্গচুর করে।
তিনি জানান, এই সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লাহ কে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন এর আগেও আমার এই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছে জাফরুল্লাহ গং। এ বিষয় নিয়ে আগেও মামলা হয়েছে যা এখনও চলমান।
এব্যাপারে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের পাওয়া যায় নাই।
এব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক বিজন কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সীমানা প্রাচীর, মূল ফটক সহ কলেজের কক্ষগুলি ভাঙ্গচুর করেছে দেখতে পাই। এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।