১৫, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০

হাসপাতালে সেবা না পেয়ে গাছের নিচে প্রসব

আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০১৮

হাসপাতালে সেবা না পেয়ে গাছের নিচে প্রসব

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে এসে, কোন সেবা না পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের সামনে একটি কামরাঙ্গা গাছের নিচে ঘাসের উপর সন্তান প্রসব করেছেন একজন প্রসুতি মা। তবুও কোন সেবা বা সহযোগীতা করতে আসেনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত কোন নার্স বা সেবীকা।

রোববার (১২ আগস্ট) সকাল ৬ টায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শিরা জানায়, ফুলবাড়ী উপজেলার কাছেই পার্বতীপুর উপজেলার হামিপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর গ্রামের বাসীন্দা রিক্সা চালক আবু তাহেরের স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হলে, ভোর সাড়ে ৫টায় ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে কর্মরত নার্স (সেবীকা) রোজিনা আক্তার ও আফরোজা খাতুন, প্রসব বেদনায় ছটফট করা আবু তাহেরের স্ত্রীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি না করে, একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলেন, এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলা থেকে নামিয়ে দেন তারা।

এ সময় রোগীর প্রসব বেদনা আরো তিব্র হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের এক দোকানির মা এগিয়ে আসলে তার সহযোগীতায় খোলা আকাশের নিচে কামরাঙ্গা গাছের নিচে ঘাসের উপর একটি কন্যা শিশুর জন্ম হয়। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর তোপের মুখে প্রসুতি মা ও তার বাচ্চাকে হাসপাতালের বেডে নেয়া হয়।

নবজাতক শিশুটির বাবা আবু তাহের বলেন, তার স্ত্রী যখন প্রসব বেদনায় ছটপট করছে সে তখন বারবার দায়িত্বরত নার্সদের অনুরোধ করেও কারও সেবা পাননি। অবশেষে খোলা আকাশের নিচেই তার স্ত্রীকে সন্তান প্রসব করতে হয়েছে। এই জন্য তিনি এই ঘটনার বিচার চান।

অপরদিকে ঐ প্রসুতি মা বলেন, তিনি যখন প্রসব ব্যাথায় কাতর ঠিক তখন ঐ সেবিকারা তাকে বলেন তার পেটে টিউমার আছে তাকে এখানে প্রসব করা যাবেনা স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিকে যাবার কথা বলে ব্যাথায় কাতর প্রসুতি মাকে উপরতলা থেকে নিচে জোর করে নামিয়েদেন।

এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনা আমি লোক মুখে শুনতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে এসে ওই শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। তিনি আরো বলেন, কর্তব্যহীনতার অপরাধে ওই নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্রকরে স্থানীয় এলাকবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।