রাজধানীর অদূরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মনির হোসেন ও রিপন মিয়া নামের দুই কথিত সাংবাদিক ভুয়া ডিবি সেজে চাঁদাবাজির সময়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত আড়াইটায় (৮ জুলাই, সোমবার) আশুলিয়ার ডিইপিজেড গেটের বিপরীত পাশের ওভার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আশুলিয়া থানার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত মনির হোসেন নোয়াখালীর চাটখিল থানাধীন দক্ষিণ মোহাম্মদপুর এলাকার হাসান আহাম্মেদ মিয়ার ছেলে। তিনি আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় শাহ আলমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। আর রিপন মিয়া আশুলিয়া থানাধীন ভাদাইল এলাকার আনিসুল হকের ছেলে।
আশুলিয়া থানার এসআই নুর উদ্দিন জানান, রোববার গভীর রাতে আশুলিয়ার ডিইপিজেড এলাকায় ডিবি পরিচয়ে এক চা দোকানদারকে মারধর করে মনির ও রিপন নামের দুই ব্যক্তি। একপর্যায়ে তাদেরকে থানায় তুলে নেয়ার হুমকি দেয় তারা। এক পর্যায়ে তারা দু’জন সীমা নামের এক নারীর থেকে এক হাজার টাকা, তছের আলীর কাছ থেকে ৩শ’ ও চা দোকানদার মোজাম্মেলের থেকে দুই হাজার ৩শ’ টাকাসহ তিনটি মোবাইল হাতিয়ে নেয়। এসময় আশুলিয়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য মনির ও রিপনকে গ্রেফতার করে। এসময় আটকদের থেকে নগদ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
এব্যাপারে আশুলিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, মনির হোসেন নামের ঐ ব্যাক্তি নিজের নামটি পর্যন্ত লিখতে পারে না। অথচ সে দুইটি পত্রিকার স্টিকার লাগিয়ে একটি চোরাই পালসার মোটরসাইকেল ব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়ায় এবং নিজেকে বড় মাপের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজীতে মত্ত থাকে। তার সাথে গ্রেফতার হওয়া রিপন মিয়া একজন ইলেকট্রিক দোকানদার। সে কোনো এক পত্রিকার কার্ড কিনে বিরাট সাংবাদিক পরিচয়ে শুরু করে বেপরোয়া চাদাঁবাজি। পতিতা কিংবা ফুটপাতের ব্যবসায়ী এমন কেউ নেই যারা তাদের চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা পেয়েছে। কোন পত্রিকা বা মিডিয়ায় এদের নিউজ দেখা না গেলেও আড়াল থেকে কোন এক গডফাদার এদের শেল্টার দেয় বলে জানান একাধিক গণমাধ্যমকর্মী।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, আটক দুই কথিত সাংবাদিক আশুলিয়ার রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য বলে জানেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, গ্রেফতারকৃত ভুয়া সাংবাদিক মনির ও রিপন এর মত আশুলিয়ায় বেশ কিছু ভুয়া সাংবাদিক রয়েছে, যারা সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতিনিয়ত ফুটপাত থেকে শুরু করে সর্বত্র দাপিয়ে বেড়ায়। তাদের নেই কোন মিডিয়া এবং নেই কোন সাংবাদিকতার ব্যাকগ্রাউন্ড। এদের কারণেই প্রকৃত সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন আশুলিয়ার সচেতন মহল। প্রশাসনের প্রতি এ ধরনের ভুয়া সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে এদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিরাজ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। গ্রেফতারদের তিনদিনের রিমান্ড চেয়ে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।