১৫, আগস্ট, ২০১৮, বুধবার | | ৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

কালজয়ী ঔপন্যাসিক ভি.এস. নাইপল

আপডেট: আগস্ট ১২, ২০১৮

কালজয়ী ঔপন্যাসিক ভি.এস. নাইপল

চলে গেলেন নোবেল জয়ী বিখ্যাত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক স্যার ভি.এস নাইপল। ৮৫ বছর বয়সে লন্ডনে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নাইপল চলে গেলেও তাঁর কালজয়ী সব রচনা পাঠক হৃদয়কে আন্দোলিত করবে চিরকাল। তাঁর সাহিত্যের মাঝে তিনি বেঁচে থাকবে আজীবন।

ভি.এস. নাইপল নামে সর্বাধিক পরিচিত হলেও তাঁর পুরো নাম বিদ্যাধর সূর্যপ্রসাদ নাইপল।  সাহিত্যের নানা সম্মানজনক পুরষ্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯৭১ সালে ‘ইন অ্যা ফ্রি স্টেট’ বইটি লেখার জন্য জিতেন বুকার পুরষ্কার। ১৯৮৯ সালে লাভ করেন নাইটহুড উপাধি। ১৯৯০ সালে তাঁকে দেওয়া হয়      ‘স্যার’ উপাধি। এরপর ২০০১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।

ত্রিনিদাদের একটি ছোট গ্রামে ১৯৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন নাইপল। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ছিল সাহিত্যের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। সেই ধারা বজায় রেখেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক শেষ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম লেখা শুরু করলেও, সে সময় তাঁর কোনো লেখাই প্রকাশিত হয়নি। তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘দ্য মিসটিক ম্যাস্যা’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। নোবেল বিজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার লেখক জি.এম কোয়েটজি তাঁর প্রশংসা করে বলেন, ‘আধুনিক ইংরেজি গদ্যের একজন মাস্টার’।

তাঁর উপন্যাস ও ভ্রমনকাহিনী বিষয়ক গ্রন্থগুলো পাঠকদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয়। তাঁর লেখা কালজয়ী উপন্যাসগুলোর মধ্যে ‘দ্য ম্যাজিস্টিক ম্যাসিওর’, ‘দ্য সাফরেজ অব এলভিরা’, ‘মিগ্যাল স্ট্রিট’, ‘এ হাউস ফর মিস্টার বিশ্বাস’, ‘দি এনিগমা অফ অ্যারাইভাল’ প্রভৃতি অন্যতম। তাঁর লেখনীতে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য অমর চরিত্র। এছাড়া ‘এ বেন্ড ইন দ্য রিভার’, ‘অ্যামং দ্য বিলিভার্স’ তাঁর অমর সাহিত্য সৃষ্টি।

জোসেফ কনরেড, চার্লস ডিকেন্স এর মতো ইংরেজি সাহিত্যের শীর্ষ লেখকদের সাথে তাঁর তুলনা করা হয়েছে বহুবার। তিনি ছিলেন বেশ সাহসী লেখক। পূর্ব-পুরুষ দেশ ভারত নিয়ে তাঁর রচনা সমালোচিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তবে ভারত নিয়ে সরস-বিরস রচনার সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সে ভারতকেই উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর নোবেল পুরষ্কারটি।

নারী সাহিত্যিকদের প্রতি বিরূপ মনোভাব ব্যক্ত করে নাইপল বলেছেন, ‘মেয়েরা আবেগপ্রবণ, তাদের লেখালেখিতেও সেই সঙ্কীর্ণ চিন্তাধারা। ফলে জেন অস্টিন থেকে কেউই সাহিত্যিক হিসেবে প্রথম শ্রেণীর নন।’ অবশ্য নারীদের প্রতি এমন মনোভাবের কারণে নাইপল কম সমালোচিত হননি।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই সাহিত্যিক ২০১৬ সালে ঢাকায় এসেছিলেন। হুইলচেয়ারে বসেই ঢাকা সাহিত্য উৎসব-২০১৬ উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। অর্ধাঙ্গিনী লেডি নাইরা নাইপলও ছিলেন সে সফরে তাঁর সাথে। কোন নোবেলজয়ী সাহিত্যিকের এটাই ছিল প্রথম ঢাকায় পদার্পণ। মহান ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সস্ত্রীক গিয়েছেন সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ঢাকা ঘুরে নাইপল বলেন, ‘ঢাকা এসে খুব ভালো লাগছে আমার।’

‘আমার জীবন খুব ছোট, গুজবে কান দেওয়ার সময় আমার নেই’ – এ কথাটি বলে গেছেন ভিএস নাইপল। সত্যিই কারও গুজবে কান দেন নি তিনি। তাই তো, একের পর এক রচনা করে গেছেন সাহসী সব রচনা।