১৫, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০

শ্বশুরের সঙ্গে গৃহবধূর পরকীয়ার ‘অপবাদ’! করুন পরিণতি

আপডেট: আগস্ট ১২, ২০১৮

শ্বশুরের সঙ্গে গৃহবধূর পরকীয়ার ‘অপবাদ’! করুন পরিণতি

বরগুনার আমতলী উপজেলার পশ্চিম সোনাখালী গ্রামে শ্বশুরের সঙ্গে পরকীয়ার ‘অপবাদ’ দেয়ার অভিযোগে লাইজু আক্তার নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার দিন রাতেই আমতলী থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার একটি মামলা করা হয়। মামলার আসামি লাইজুর শ্বশুর শানু হাওলাদার ও শাশুড়ি আকলিমা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে বিয়ে হয়েছিল লাইজু আক্তারের। বিয়ের পর থেকেই লাইজুর ঠিকানা হয় শ্বশুরবাড়ি। তবে সুখ খুব বেশি দিন থাকেনি। কারণ বিয়ের কিছু সময় পর থেকে তার সঙ্গে শ্বশুরের পরকীয়া আছে বলে অভিযোগ করেন শাশুড়ি। কিন্তু, তা অস্বীকার করে আসছিলেন পুত্রবধূ লাইজু। এরই এক পর্যায়ে তার ঝুলন্ত লাশ মিলেছে। নিহত ওই গৃহবধূর পরিবার ও পুলিশের সন্দেহ শাশুড়ির ‘অপবাদের’ কারণেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের মধু আকনের কন্যা লাইজুর সঙ্গে একই গ্রামের শানু হাওলাদারের ছেলে মামুনের গত ডিসেম্বরে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মামুন তার বাবা-মায়ের কাছে লাইজুকে রেখে ঢাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করছেন।

মাস দুয়েক আগে শ্বশুর শানু হাওলাদারের সঙ্গে গৃহবধূ লাইজুর পরকীয়ার সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ করেন শাশুড়ি আকলিমা বেগম। এ নিয়ে প্রায়ই শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া লেগে থাকতো লাইজুর। শুক্রবার (১০ আগস্ট) দুপুরে আকলিমা একই বিষয় তুলে তাকে আবার গালিগালাজ করেন।

এই পুরো ঘটনার কথা লাইজু মোবাইলে স্বামী মামুনকে জানান। মামুন এ সময় মায়ের সঙ্গে একমত হয়ে লাইজুর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনেন। এরপর পরই ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। শনিবার (১১ আগস্ট) সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতেই লাইজুর মা গোলেনুর বেগম বাদী হয়ে মামুনকে প্রধান আসামি করে ৩ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই শ্বশুর শানু হাওলাদার ও শাশুড়ি আকলিমা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন শনিবার পুলিশ গ্রেফতার দু’জনকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এ ব্যাপারে নিহত লাইজুর মা গোলেনুর বেগম বলেন, ‘শুক্রবার আমার মেয়ে আমাকে ফোন দিয়ে ওর স্বামী মামুন ও শাশুড়ি আকলিমা অপবাদ দিয়ে গালাগাল করেছে বলে জানায়। আমার মেয়ে শাশুড়ি ও জামাইয়ের অপবাদ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমানুল ইসলাম ইমন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে লাইজু আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আলাউদ্দিন মিলন বলেন, এ ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা হয়েছে। মামলার আসামি শ্বশুর ও শাশুড়িকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।