চলমান বিশ্বকাপে যে কজন ক্রিকেটার নজরে ছিলেন তাদের মধ্যে একজন আফগান ক্রিকেটার রশিদ খান।কারনটা সবারই জানা। বিশ্বকাপের আগে আইপিএলে দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিনি। সেই সময় ভারতের মাঠে তার ধারাবাহিক সাফল্যের পর দম্ভ করে রশিদ খান বলেছিলেন, ‘আমি পাঁচ রকমের লেগ স্পিন করতে পারি, পাঁচটি ভিন্ন অ্যাকশনে। পিচের ওপর বলের বৈচিত্র্য বজায় রেখে গুড লেন্থে বল রাখি। এ কারণেই সাফল্য পাই।’কিন্তু বিশ্বমঞ্চে দেখা মিলল এক খল নায়কের।গেলেন বিলেন বনে।
ক্রিকেটবোদ্ধাসহ আফগানিস্তান সমর্থকরা আশা করেছিলেন যে, স্পিন ফাঁদে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের ত্রাসে পরিণত হবেন তিনি। দলকে নিয়ে যাবেন সম্মাজনক স্থানে। সেই আশায় গুড়েবালি দিলেন রশিদ খান। ব্রিস্টল, কার্ডিফ, সাউদাম্পটন, এজবাস্টন, টনটন কোথাও রশিদ খানের ঘূর্ণিকে পাত্তাই দেননি বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানরা।
৯ ম্যাচে ৭১.৫ ওভার বল করে ৪১৫ রান দিয়েছেন তিনি। বিপরীতে মাত্র ৬ উইকেট জমা করতে পেরেছেন ঝুলিতে।
বিশ্বকাপের এক ইনিংসে সবচেয়ে খরুচে বোলার হিসেবে নামও লিখিয়েছেন তিনি। তার বিপরীতে ব্যাট করে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়েছেন ইংলিশ অধিনায়ন ইয়ন মরগান। সে ম্যাচে বল হাতে অন্যরকম সেঞ্চুরি করেন এই আফগান স্পিনার। ৯ ওভারে ১১০ রান দিয়েও কোনো উইকেট শিকার করতে পারেননি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যা বাজে বোলিং হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
শুধু বোলিংয়েই নয়, ব্যাট হাতেও লিখে রাখার মতো কিছুই করতে পারেননি ২১ বছর বয়সী এই আফগানি।
৯ ম্যাচে ৯ ইনিংস খেলে তার সংগ্রহ মাত্র ১০৫ রান।
বিশ্বকাপে এমন বাজে পারফরম্যান্সের কারণে অলরাউন্ডিং র্যাঙ্কিংয়ে কয়েক ধাপ পিছিয়ে পড়লেন রশিদ খান। গ্রুপপর্বের খেলা শেষ হতেই দল ও ক্রিকেটারদের র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (আইসিসি)।
সেখানে পঞ্চম স্থানে গিয়ে ঠেকেছেন তিনি। অথচ বিশ্বকাপ শুরুর আগে অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন এই লেগস্পিনার। আর তাতে আফগানিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীর পেছনে পড়ে গেছেন তিনি।
এদিকে বিশ্বকাপে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ক্রিকেট খেলে প্রথম অবস্থানেই নিজেকে সমুন্নত রেখেছেন টাইগার সাকিব আল হাসান।
আট ম্যাচে ৬০৬ রান করার পাশাপাশি বোলিংয়ে ১১ উইকেট শিকার করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তালিকায় ৪০৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সাকিব এতটাই ওপরে যে, তার ধারেকাছে কেউ নেই।
অলউন্ডারের তালিকায় দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকা ইংলিশ তারকা বেন স্টোকসের পয়েন্ট ৩১৬। বেন স্টোকস থেকে ৯০ রেটিং পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে সাকিব।
আর ৩১০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী আছেন তিনে। ২৯৯ ও ২৮৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে চার ও পাঁচ নম্বর পজিশনে আছেন পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিম ও আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান।
তবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ৬৯২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ২২ নম্বর পজিশনে আছেন সাকিব আল হাসান। তার চেয়ে ১২ রেটিং পয়েন্ট বেশি নিয়ে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ১৯তম পজিশনে আছেন মুশফিকুর রহিম।
তবে বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ৮৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ৮৮৫ রোটিং পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রোহিত শর্মা।
বার্তাবাজার/এএস