১৮, ডিসেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪০

ঈদ কবে- ২২ না ২৩ আগস্ট?

আপডেট: আগস্ট ১২, ২০১৮

ঈদ কবে- ২২ না ২৩ আগস্ট?

ঈদুল আযহা বা ঈদুল আজহা ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের একটি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদের দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়ে থাকে। এ বছর কুরবানির ঈদ ২২ আগস্ট না ২৩ আগস্ট হবে তা জানা যাবে রোববার (১২ আগস্ট)।

বাংলাদেশে এই উৎসবটি কুরবানির ঈদ নামে পরিচিত। ঈদুল আযহা মূলত আরবি বাক্যাংশ। এর অর্থ হলো ত্যাগের উৎসব। আসলে এটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ত্যাগ করা।

এ দিনটিতে মুসলমানেরা তাদের সাধ্যমত ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী উট, গরু, দুম্বা কিংবা ছাগল কোরবানি বা জবাই দেয়।

রবিবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ওই কমিটি থেকে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। শনিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

রোববার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে সোমবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে কুরবানির ঈদ হবে ২২ আগস্ট।

আর রোববার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা না গেলে সোমবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে মঙ্গলবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে, ঈদ উদযাপিত হবে ২৩ আগস্ট।

রোববার বাংলাদেশের আকাশে কোথাও জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে জানাতে অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ বছর ২২ আগস্ট কুরবানির ঈদ ধরে ২১, ২২ ও ২৩ আগস্ট কুরবানি ঈদের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছে সরকার। তবে ঈদ ২৩ আগস্ট হলেও ছুটি বাড়বে না, কারণ ২৪ ও ২৫ আগস্ট শুক্র-শনিবার এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটি।

উল্লেখ্য, ইসলামের বিভিন্ন বর্ননা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলা ইসলামের নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে স্বপ্নে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কুরবানি করার নির্দেশ দেন। এই আদেশ অনুযায়ী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার সবচেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করার জন্য প্রস্তুত হলে স্রষ্টা তাকে তা করতে বাধা দেন এবং পুত্রের পরিবর্তে পশু কুরবানীর নির্দেশ দেন।

এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করে। হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসাবে জিলহজ্জ্ব মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরে ঈদুল আজহা চলে। হিজরি চান্দ্র বছরের গণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার মাঝে ২ মাস ১০ দিন ব্যবধান থাকে। দিনের হিসেবে যা সবোর্চ্চ ৭০ দিন হতে পারে।

ইসলাম মতে যার যাকাত দেয়ার সামর্থ্য আছে তাঁর ওপর ঈদুল আযহা উপলক্ষে পশু কুরবানি করা ওয়াজীব। ঈদুল আযহার দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী দুইদিন পশু কুরবানির জন্য নির্ধারিত। বাংলাদেশের মুসলিমরা সাধারণত গরু বা খাসী কুরবানি দিয়ে থাকেন। এক ব্যক্তি একটি গরু, মহিষ বা খাসি কুরবানি করতে পারেন।

তবে গরুর বা মহিষ এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ ভাগে কুরবানি করা যায় অর্থাৎ ২, ৩, ৫ বা ৭ ব্যক্তি একটি গরু কুরবানিতে শরিক হতে পারেন। সাধারণত আমাদের দেশে কুরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করে ১ ভাগ গরিব-দুঃস্থদের মধ্যে ১ ভাগ আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে এবং ১ ভাগ নিজেদের খাওয়ার জন্য রাখা হয়, তবে মাংশ বিতরণের কোন সুস্পষ্ট হুকুম নেই।